হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ, ৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ০৭:০৮, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২৭, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

মামলাক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ২৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মো. ইয়াছিন নামে এক ব্যবসায়ী। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর আইনজীবী শহীদুল ইসলাম সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) বর্তমান ওসি প্রিটন সরকার, এসআই মো. আফতাব, এএসআই মো. ইব্রাহিম, এএসআই মিঠুন নাথ, কনস্টেবল রহমান ও সাইফুল।

ইয়াছিন নগরীর পলিটেকনিক্যাল এলাকার মেসার্স ইয়াছিন এন্টারপ্রাইজের মালিক। তিনি নির্মাণসামগ্রীর পাইকারি বিক্রেতা।

আইনজীবী শহীদুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারকে (প্রশাসন ও অর্থ) ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর এসআই আফতাবের নেতৃত্বে এএসআই মো. ইব্রাহিম, এএসআই মিঠুন নাথ, কনস্টেবল রহমান ও সাইফুল ব্যবসায়ী ইয়াছিনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোর করে তুলে নিয়ে থানায় আটকে রাখে। পরে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দেয়। অস্ত্র মামলা দিয়ে তাকে আদালতে চালান দেওয়ার কথাও বলে। এরপর আসামিরা তার (ইয়াছিনের) ভাইকে কল করে টাকা এনে তার ভাইকে ছাড়িয়ে নিতে বলে। পরে ইয়াছিনের ভাই মো. ফারুক ১১ লাখ টাকা জোগাড় করে থানায় গেলে ওই টাকা নিয়ে সাদা কাগজে সই রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর কথা বলা হয়। কাউকে জানালে তারা ইয়াছিনকে যেখানে পাবে সেখানেই গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এজন্য তারা সেই সময় আইনের আশ্রয় নেননি। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ড থেকে ফেরার পথে নগরীর শেরশাহ গোলচত্বর এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে ইয়াছনিকে আবার মাইক্রোবাসে তুলে অনন্যা আবাসিক এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে নিয়ে যাওয়ায় হয়। সেখানে আসামিরা তার কাছে আবার ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। চাঁদা না দিলে এবারও গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বাদীর ভাই মো. ফারুক ১২ লাখ টাকা নিয়ে থানায় দিয়ে আসেন। ওই দিন রাত ১২টার দিকে আতুরার ডিপো এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে ইয়াছিনকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

আইনজীবী শহীদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘গত ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার ঘটনার পর পুলিশের মহাপরিদর্শক, চট্টগ্রামের ডিআইজি ও সিএমপি কমিশনার বরাবর ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। এরপরও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ মোহাম্মদ ইয়াছিন বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে বায়েজিদ বোস্তামি থানার বর্তমান ওসি মামলার দুই নম্বর আসামি প্রিটন সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ