সেই তুফানের বিচার শুরু

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৪৪, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৮, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

বুধবার বগুড়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয় ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত তুফান সরকারকে। ছবি: ফোকাস বাংলাবগুড়ায় এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম ফজলুল হক শুনানি শেষে চার্জ গঠন করেন। এছাড়া তুফানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

ঘটনার প্রায় তিন বছর ও চার্জশিট দাখিলের সোয়া দুই বছর পর বিচার কাজ শুরু হলো। আগামী ১৯ এপ্রিল মামলার বাদী ও ভিকটিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। আদালতের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জী এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে তারা হলেন-বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুরের মজিবর রহমানের ছেলে শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকার, তার স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, আশার বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও বাদুড়তলার জাহিদ হোসেনের স্ত্রী মারজিয়া হাসান রুমকি, তাদের মা বাদুড়তলার জামিলুর রহমান রুনুর স্ত্রী লাভলী রহমান রুমি, তুফান বাহিনীর সদস্য শহরের খান্দার এলাকার মোখলেসুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান আতিক, বাদুড়তলার আবদুল বাসেদের ছেলে মো. মুন্না, চকসুত্রাপুরের দুলু আকন্দের ছেলে আলী আজম দিপু, শিববাটির জহুরুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান রূপম, একই এলাকার জেল্লাল উদ্দিনের ছেলে সামিউল হক শিমুল এবং কাহালুর খাজলাল গ্রামের শহীদ আলম খানের ছেলে এমারত আলম খান জিতু। এদের মধ্যে তুফান ছাড়া অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

আদালত ও অন্যান্য সূত্র জানায়, ভালো কলেজে ভর্তির নামে তুফান সরকার ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই তার ‘তুফান বাহিনীর’ ক্যাডার দিয়ে ওই ছাত্রীকে তার শহরের চকসুত্রাপুর চামড়াগুদাম লেনের বাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে বললে বোমা মেরে বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তুফানের স্ত্রী আশা, শ্যালিকা রুমকি ও শ্বাশুড়ি রুমি উল্টো ওই ছাত্রীকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে। ওই বছরের ২৮ জুলাই তাদের নির্দেশে ছাত্রী ও তার মাকে পৌর কাউন্সিলর রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আতিক, দিপু, রূমন, মুন্না তাদের চার ঘন্টা ধরে মারধর ও শ্লীলতাহানী করে। মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারনও করা হয়। প্রথমে কাঁচি দিয়ে মা ও মেয়ের চুল কেটে দেয় তারা। এতেও সন্তুষ্ট হতে না পেরে নাপিত জীবন রবিদাসকে ডেকে মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর তাদের ২০ মিনিটের মধ্যে বগুড়া ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে প্রতিবেশীদের জানালে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৯ জুলাই ছাত্রীর মা সদর থানায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় তুফান সরকারসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিমুল ছাড়া তুফানসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। তুফানকে শহর শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বগুড়া কারাগারে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠলে তুফানকে কাসিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তুফান বাহিনীর সদস্য মুন্না, আতিক, নাপিত জীবন রবিদাস আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ছাত্রীকে ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত করে।

আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলা দায়েরের ৭৩ দিনের মাথায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ গত ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামানের আদালতে তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় এবং মা-মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়াসহ নির্যাতনের মামলায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মা-মেয়েকে নির্যাতন ও ন্যাড়া করে দেওয়া মামলাটি গত বছরের ৭ নভেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালত ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। এতে ধর্ষণ মামলায় উল্লিখিত ১০ জন ছাড়াও রুমকির প্রতিবেশী আঞ্জুয়ারা বেগম ও নাপিত জীবন রবিদাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনুকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিট দাখিলের দীর্ঘদিন পর চার্জ গঠন প্রসঙ্গে স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জী জানান, ‘আসামি শিমুল পলাতক থাকায় এ সমস্যা হয়। কিছুদিন আগে ওই আসামি গ্রেফতার হওয়ায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠনে শুনানির দিন ধার্য ছিল। আসামি পক্ষের আবেদনে সেদিন চার্জ গঠন হয়নি। আদালত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন এবং হাজতে থাকা প্রধান আসামি তুফানের জামিন নামঞ্জুর করেন।’

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ শুরু হলো। আগামী ১৯ এপ্রিল বাদী ও ভিকটিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নাফ, হযরত আলী, বিজন সাহা প্রমুখ অংশ নেন।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ
X