২৮ জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে আরও ৪১৭৪ জন

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৫১, মার্চ ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৬, মার্চ ২৫, ২০২০




যশোর জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডকরোনার বিস্তার রোধে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদেশফেরত এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১৫ জেলায় ১৪০০ মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিন করার তথ্য জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮টি উপজেলায় নতুন করে ৩৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর ১৪ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং করোনা সংক্রমণের লক্ষণ না থাকায় ১০টি উপজেলার মোট ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় মোট ৯২২ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।  জেলার সিভিল সার্জনের দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রানীনগর উপজেলায় ১০ জন, আত্রাই উপজেলায় চার জন, বদলগাছী উপজেলায় দুই জন, পত্নীতলায় এক জন, ধামইরহাট উপজেলায় আট জন, নিয়ামতপুর উপজেলায় ছয় জন, সাপাহার উপজেলায় এক জন এবং পোরশা উপজেলায় ছয় জনসহ মোট ৩৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৬৫৬ জন্য ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কুমিল্লায় হোম কোয়ারেন্টিইনে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা দুই হাজারে ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান। তিনি বলেন, গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে কুমিল্লায় এসেছেন। এরমধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশ মেনেছেন দুই হাজার ২১ জন। তারধ্যে ২১৯ হোম কোয়ারেন্টিন মেনে ১৪ দিন অতিক্রম করে শঙ্কামুক্ত হয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত না হলেও কুমিল্লা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

গোপালগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে এসেছেন আরও ৮৬ জন প্রবাসী। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৪৯ জন। আর কোয়ারেন্টিন অবস্থা শেষ করেছেন ১০ জন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ এসব তথ্য জানান।

রংপুর বিভাগে নতুন করে ৩৯৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের মধ্যে রংপুরে ২৭ জন, পঞ্চগড়ে ৫০ নীলফামারীতে ১৬, লালমনিরহাট ৩২, কুড়িগ্রামে ৩৪, ঠাকুরগাঁয়ে ৪২, দিনাজপুরে ১৭৩ এবং গাইবান্ধায় ২২ জন কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন। এ নিয়ে মোট দুই হাজার ২৪ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন। অপরদিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে দুই জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

বরগুনা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এ নিয়ে কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩৬ জনে। এছাড়াও করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একজন।

জয়পুরহাটে গত ২৪ ঘণটায় আরও ৯ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৪৭ জন এবং একজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হোম কোয়ারেন্টিনের শর্ত মেনে না চলায় ১৫ জন প্রবাসীকে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর অতিথিশালায় রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ভারত থেকে সদ্য ফিরে আসা তিন জনকে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এসব প্রবাসী চীন, ইতালি, সৌদি, দুবাই, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। বর্তমানে মোট ৭৮৬ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। আর ৩৪৭ জন হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ১৩৩ জন হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তবে এখনও হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে ৭৩০ জনের বেশি প্রবাসী রয়েছেন বলে জানান তিনি।

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন এক হাজার ৬৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় ১১৭ জন, বাগেরহাটে ৮৩ জন, সাতক্ষীরায় ৪০২ জন, যশোরে ৩১৩ জন, ঝিনাইদহে ১১৭ জন, মাগুরায় ২৪ জন, নড়াইলে ২৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৫১৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩৫ জন ও মেহেরপুরে ৩৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনার উপজেলাগুলোতে মঙ্গলবার বেলা ১০টা থেকে বুধবার বেলা ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপে ১২ জন, বটিয়াঘাটায় ৮ জন, রূপসায় ৮ জন, তেরখাদায় ২ জন, দিঘলিয়ায় ৩ জন, ফুলতলায় ১০ জন, ডুমুরিয়ায় ১০ জন, পাইকগাছায় ৯ জন, কয়রায় ২৬ জন ও কেসিসিতে ২৯ জন রয়েছে।

জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মোট ৪৭৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিনে ৬৪২ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ায় ৮৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিসংখ্যানবিদ শাহারুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১১৪ জনসহ মোট ৬৪২ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়েত জানান, জেলায় নতুন ৪০২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৮ দিনে বিদেশ ফেরত সাতক্ষীরার এক হাজার ৫৬২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হলো।





 

/টিটি/

লাইভ

টপ