সরাইলে পৃথক সাত সংঘর্ষে আহত দেড় শতাধিক

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:১২, এপ্রিল ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৫, এপ্রিল ০৬, ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সরকারিভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হলেও   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তার প্রভাব নেই। বরং এই উপজেলায় পৃথক সাতটি সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে দেড়শতাধিক লোক আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উপজেলার বিটঘর, টিঘর, বড়ইছড়া, ধরন্তি, নোয়াগাঁও ও সৈয়দটুলা গ্রামে পৃথক এই সংঘর্ষগুলো ঘটে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দিঘিতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেলে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়।

পুলিশ জানায়, টিঘর গ্রামের মুসা মিয়ার ছেলে সোহাগ (১৮) ও লোদা মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (১৮) গ্রামের বড় দিঘিতে মাছ ধরতে যায়। সেখানে মাছ ধরা নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে বিকেল ৪টার দিকে মুসা মিয়া ও লোদা মিয়ার পক্ষের কয়েকশ’ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামের রাস্তায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল এবং বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়।

অপরদিকে গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে একইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয়পক্ষে ৬০ জন আহত হন।

পুলিশ জানায়, রবিবার রাতে পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের শাহীন নামে এক যুবক বড়ইছড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে গান গাইতে গাইতে বাড়ি যাওয়ার সময় পরমানন্দপুর গ্রামের শহর আলী তাকে গান গাইতে নিষেধ করলে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শাহীন তার গ্রামে গিয়ে ঘটনাটি জানালে গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বড়ইছড়া গ্রামে হামলা করে। এ সময় বড়ইছড়া গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় গ্রামের অন্তত ৬০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাচকালে বড়ইছড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আহতদেরকে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়া রবিবার পৃথক সময়ে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর, উপজেলার ধরন্তি, নোয়াগাঁও ও সৈয়দটুলা গ্রামে পৃথক আরও ৭০ জন আহত হন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ৭টি সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে বলেন, এসব সংঘর্ষের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ