চলছে কিছু কারখানা, সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না

Send
রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
প্রকাশিত : ১৪:০৪, এপ্রিল ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৪, এপ্রিল ০৮, ২০২০

মঙ্গলবার একটি কারখানার বাইরের দৃশ্য

গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা বিজিএমইএ-এর নির্দেশনায় বন্ধ আছে। তবে মঙ্গলবারও (৭ এপ্রিল) কাজ চলেছে কিছু কারখানায়। জানা গেছে, হাজার হাজার শ্রমিক এসব কারখানায় কাজ করছেন। ফ্লোরে পাশাপাশি থেকে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামও নেই কারখানাগুলোয়। এই অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকায় শাহজাহান স্পিনিং মিলস লিমিটেড এবং গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর (জরুন) এলাকার দুলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স (ডিবিএল) নামের পোশাক কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানা চলতে দেখা গেছে মঙ্গলবার।

দুলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স (ডিবিএল) কারখানার একজন শ্রমিক জানান, এই পোশাক কারখানাটিও দুদিন ধরে চলছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর নির্দেশনায় দ্বিতীয় দফায় ১১ এপ্রিল এবং তৃতীয় দফায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ৯০ ভাগ কারখানার ছুটি থাকলেও কিছু ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান এখনও তাদের কার্যক্রম চালু রেখেছে। এসব কারখানায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই, নেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজের ব্যবস্থা।

আরও জানা যায়, করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শ্রমিকদের প্রবেশের সময় শুধু হাত ধোয়া ও সচেতনতার জন্য প্রচারণার ব্যবস্থা নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শ্রীপুরের পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার শাহজাহান স্পিনিং মিলস লিমিটে-এর একজন শ্রমিক জানান, করোনাসংক্রমণের আশঙ্কায় সারাদেশে মসজিদ-মন্দির-গির্জা বন্ধ হলেও কারখানা বন্ধ করছেন না মালিকরা। কারখানা খোলা রেখে তারা শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করছেন। শুধু হাত ধোয়া ছাড়া আর কোনো প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেই।

একই কারখানায় কর্মরত আরো একজন শ্রমিক জানান, জাতীয় দিনগুলোতে কর্তৃপক্ষ আমাদের ডিউটি করায়। বর্তমানে করোনার মধ্যেও আমাদের কাজে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। তা না হলে আমাদের অনুপস্থিত কিংবা ছাঁটাইয়েরও হুমকি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা বাঁচার তাগিদেই কাজে যোগ দিয়েছি।

করোনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, 'যারা কারখানা বন্ধের পর বাড়ি গেছেন এবং ফের কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত কিনা তা বোঝা কঠিন।' তাই এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মালিকপক্ষ, শ্রমিকসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

তবে এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ