ছবি তুলে ত্রাণ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ: যা বললেন সেই চেয়ারম্যান

Send
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৬:০২, এপ্রিল ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৫, এপ্রিল ০৮, ২০২০

চেয়ারম্যান নুরুল আবছারচট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ দেওয়ার ছবি তুলে পরে তা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ এপ্রিল ওই উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। অসহায় পরিবারগুলোর দাবি, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আবছার তাদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে ছবি তুলে ত্রাণ কেড়ে নেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাদের মারধরও করেছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যান নুরুল আবছার। তিনি বলেছেন, তাকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ‘চক্রান্তের’ সঙ্গে বিএনপির এক রাজনীতিক জড়িত।

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কারণ দর্শানোর নোটিশে এ ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কেন সংঘটিত হয়েছে, কে বা কারা এ ঘটনার জন্য দায়ী এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করার জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শোকজ নোটিশ

হয়রানির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ৬ এপ্রিল সকালে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। পরে সেখানে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ও তার লোকজন ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে ছবি তোলেন। ছবি তোলার পর চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মিজানুর রহমান টিপু ও তার লোকজন তাদের দেওয়া ত্রাণগুলো কেড়ে নেয়। কয়েকজন এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের মারধর করে। তারা পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

ঘটনার সময় ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার এম জালাল আহমেদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন (গত ৬ এপ্রিল) আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক করছিলাম। এসময় বাইরে লোকজনের শোরগোল শুনে বের হয়ে দেখি, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বেশ কিছু মহিলা জড়ো হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান তাদের চাল দেবে বলে ডেকে এনে এখন চাল দিচ্ছেন না। এরপর এখানে কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করে তারা উপজেলার দিকে চলে যান। পরে ইউএনও তাদের ২৬ জনকে ওই ত্রাণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’মেম্বারদের অনাস্থা প্রস্তাব

এর আগে গত ৪ এপ্রিল অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন ইউনিয়ন পরিষদের সাত জন মেম্বার। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়া ওই অনাস্থা প্রস্তাবে তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান তাদের কিছু না জানিয়ে খালি রেজুলেশন করে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় ব্যয়ের কোনও হিসাবপত্র তাদের জানানো হয় না। তাদের না জানিয়েই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছেন। এসব কারণে তারা অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে বহিষ্কার করার দাবি জানান।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ওইদিন সরকার থেকে আমাদের কাছে কী পরিমাণ ত্রাণ এসেছে, কীভাবে কাদের দেবো সেটি নিয়ে আমরা মিটিং করছিলাম। ওই সময় একজন মেম্বার যিনি বিএনপির রাজনীতি করেন, ত্রাণ দেবে বলে গুজব ছড়িয়ে লোক জড়ো করেন। কিন্তু তখন তো আমরা ত্রাণ দেওয়া শুরু করিনি। তাই তাদের ফিরে যেতে বলেছি।’

অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনে তারা অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন, তার কোনও ভিত্তি নেই। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই ওইসব মেম্বার এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছেন।’

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৬ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে, তখন আমি বাসায় অবস্থান করছিলাম। তখন শুনলাম বেশ কয়েকজন লোক আমার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে আছে। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে যাই, পরে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাদের বেলা ১১টার দিকে ত্রাণ দেবে বলে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ২টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখার পর বলা হয় ত্রাণ দেওয়া হবে না। তখন তারা বলে আমাদের ত্রাণ দিতে হবে, না হয় আমরা যাব না। এরপর তারা না যেতে চাইলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাদের মারধর করে বলে তারা অভিযোগ করেন। এরপর আমি তাদের উপজেলার তহবিল থেকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করি। পাশাপাশি এই ঘটনা কেন সংঘটিত হয়েছে, এই ঘটনায় কারা দায়ী, সেই বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছি।’

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ