নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে এক নারী চিকিৎসককে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। ওই নারী চিকিৎসক সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিভাগে কর্মরত আছেন। তবে বাড়িওয়ালা বলেছেন, জানতেন না যে ওই নারী একজন চিকিৎসক।
ওই চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত সব নিয়ম কানুন মেনে সার্বক্ষণিক রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। তিনি শিমুলিয়া গ্রামে মোহাম্মদ আলীর বাসায় তার ছোট বোনের পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকেন। তার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লায়।
তিনি বলেন, ‘১৪ এপ্রিল বিকালে ছোট বোন আমাকে বলে, আমি যেন আর তাদের বাড়িতে না যাই। ওই দিন সন্ধ্যার সময় বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আলী আমাকে অপমানজনক কথা বলেন। ওই বাসায় যেতে নিষেধ করেন। বাড়ির মালিকের ধারণা, আমার বাইরে যাওয়া-আসার কারণে তারা করোনা আক্রান্ত হবেন।’
তিনি আরও বলেন, যানবাহন বন্ধ থাকায় কুমিল্লায় যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তিনি গত ২ দিন থেকে সোনাইমুড়ীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের একটি কক্ষে কোনও রকমে থাকছেন।
ওই চিকিৎসকের স্বামী জাহিদুল হাসান কুমিল্লা ডায়বেটিক হাসপাতালের জুনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, বিষয়টি অমানবিক। এ সংকট মুহূর্তে চিকিৎসকরা নিজের জীবন বাজি রেখে আক্রান্ত মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় একজন বাড়ির মালিকের এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু, গত ২ দিনেও তারা কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় থেকে আমি এইমাত্র অবগত হয়েছি। তিনি যদি এ ব্যাপারে সহযোগিতা চায় তাহলে সহযোগিতা করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল বলেন, ওই চিকিৎসকের স্বামী তাকে বিষয়টি অবহিত করলে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছেন।
বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আলী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘ওই নারী যে হাসপাতালের চিকিৎসক আমাকে তা জানানো হয়নি। জানলে আমি একথা বলতাম না।’








