সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র কম, মানা সম্ভব হবে না স্বাস্থ্যবিধি

Send
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:৩২, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৩৮, মে ১৯, ২০২০

করোনা প্রাদুর্ভাবের উদ্বেগের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় আম্পানের খবরে চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। করোনা তাও হয়তো সবার হবে না, স্বাস্থ্যবিধি মানলে বাঁচার উপায় আছে কিন্তু, আম্পানের নাক বাংলাদেশ উপকূলের দিকে থাকায় এই ঝড় থেকে পরিত্রাণের কোনও উপায় নেই। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। বাধ্য হয়েই সুপার সাইক্লোন আম্পানে ভেসে যাওয়ার ভয় ও নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে ইউনিয়নগুলোতে সাইক্লোন সেন্টারের সংখ্যা  কম থাকায় করোনাভাইরাসের জন্য সরকার ঘোষিত স্বাস্থবিধি এখানে মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়বে।


জানা গেছে, আম্পান থেকে রক্ষা পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণ। কীভাবে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও নদী ভাঙন মোকাবিলা করবে সেটা নিয়ে চিন্তিত।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগাম প্রস্তুতি থাকার কারণে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছিল উপকূলের মানুষ। সম্পদের ক্ষতি হলেও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল না বলেই চলে। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রস্তুতি হিসেবে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী, ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। আর দ্বীপ ইউনিয়ন হাওয়াই গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে মানুষের আশ্রয় নেওয়া শুরু হয়েছে।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, গাবুরা ইউনিয়নে ১৫টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুতি রয়েছে তার মধ্যে প্রতিবন্ধীদের ওঠানোর জন্য সাতটি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। তবে মাত্র ৫টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। গাবুরা ইউনিয়নের বাঁধের পাঁচটি পয়েন্ট খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ৪২ হাজার জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে এখানে। ফলে এখানে করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করাও সম্ভব হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনসাধারণকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আরও কিছু সাইক্লোন শেল্টার প্রয়োজন আছে বলে জানান তিনি।

পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম আতাউর রহমান বলেন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ১৩ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত আছে। তিনটি সাইক্লোন শেল্টারে প্রতিবন্ধীদের ওঠার ব্যবস্থা আছে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে তিনটিতে। মোট জনসংখ্যা ৩৯ হাজার জনসংখ্যার তুলনায় সাইক্লোন শেল্টার সংখ্যা কম। ফলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে না। আরও ৮ থেকে ৯ টা সাইক্লোন শেল্টার প্রয়োজন আছে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টের ভেড়ি বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনও মুহূর্তে প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবোতোষ কুমার মন্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নে ১২ সাইক্লোন শেল্টার। সবগুলো প্রস্তুত রয়েছে। ৪৪ হাজার জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম সাইক্লোন শেল্টার এই ইউনিয়নে। ফলে সামাজিক দূরত্ব মেনে গ্রামবাসীকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হবে না। ১৫ থেকে ২০ সাইক্লোন শেল্টার হলে জনসাধারণকে আশ্রয় প্রদান করা সহজ গহতো। একটিতে প্রতিবন্ধীরা উঠতে পারে। এই ইউনিয়নে ৮ পয়েন্টে ভেড়ি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে সাইক্লোন সেন্টারের সংখ্যা ১৯ ইতোমধ্যে সবগুলো সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। ৫০ হাজার জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজন আরও ১৫ থেকে ২০ টি সাইক্লোন শেল্টার। ফলে সামাজিক দূরত্ব মেনে এলাকাবাসীকে তোলা সম্ভব হবে না। একটি সাইক্লোন শেল্টার বাদে বাকিগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। সবগুলোতে প্রতিবন্ধীদের ওঠার ব্যবস্থা রয়েছে। ৭ পয়েন্টে ভেড়ি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে কৈখালী ইউনিয়নে সবগুলো সাইক্লোন সেন্টার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব সাইক্লোন শেল্টারে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের ওঠার  জন্য সবকটি সাইক্লোন শেল্টারে ব্যবস্থা রয়েছে। ৪৫ হাজার জনসংখ্যার তুলনায় সাইক্লোন শেল্টার কম থাকায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এখানেও সম্ভব হবে না। তিনি জানান, এই ইউনিয়নে আরও ১৭ টি সাইক্লোন সেন্টার প্রয়োজন। তার ইউনিয়নে ভেড়ি বাঁধের ১১ টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে সাইক্লোন শেল্টার ছাড়া মসজিদ মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত রেখেছে। দুর্যোগকালীন সময়ে তাৎক্ষণিক প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে শুকনা খাবার মজুত রয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আ না ম  আবুজার গিফারী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাত থেকে বাঁচতে উপকূলের প্রতিটি ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের জন্য স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। ইতোমধ্যে ৭ নং সংকেত দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের এলাকার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাইছে না। অনেককে জোর করে আনতে হয়। আমার চেষ্টা করছি সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে।  

/টিএন/

লাইভ

টপ
X