ঝালকাঠিতে আম্পানের প্রভাবে পঞ্চাশ গ্রাম প্লাবিত

Send
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৩৯, মে ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪১, মে ২২, ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝালকাঠি জেলা শহরসহ ৫০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাতের কয়েকদফা ঝড়ে কয়েকশ’ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে মাছের খামার। নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০/৬০ গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে।

নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবিত অঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। জেলাশহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।  

এদিকে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল ও নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় জেলা খাদ্য গুদামে এ সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির, মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, এনডিসি আহমেদ হাছান বাংলাদেশ স্কাউটস আঞ্চলিক উপ-কমিশনার ডিআরসি (সমাজ ও উন্নয়ন) হুমায়ূন কবীর উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ২১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ১ বান টিন ও ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রেম ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

অপরদিকে কাঠালিয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিষখালি নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষখালী নদীর পানি ৭ থেকে ৮ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজদি ও বহু স্থাপনা ভেঙে গেছে।

বিষখালী নদীর ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় কাঠালিয়া, আউরা, জয়খালী, চিংড়াখালী, বড় কাঠালিয়া, আওরাবুনিয়া, রগুয়ারচরসহ কমপক্ষে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শতশত একর জমির ফসল, জলাশয়ের মাছ ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রাম অঞ্চলের অনেক স্থানের কাচা সংযোগ রাস্তা ভেঙ্গে বিভিন্ন বাড়ি ও এলাকার সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি অনেক বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। ফলে বিষখালী নদী তীরবর্তী অরক্ষিত এলাকার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রাশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আগত লোকদের খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

/এফএএন/

লাইভ

টপ