পাবনায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোরস্থানে দাফন: কবর জিয়ারত ও ঈদের নামাজ বন্ধ!

Send
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:০০, মে ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০২, মে ২৬, ২০২০

করোনায় মারা যাওয়া এলজিইডির এক কর্মকর্তাকে পাবনার কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় কবরস্থানে জিয়ারত ও কবরস্থানের মসজিদে ঈদের জামাত। এতে সংক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা।

পাবনা সদরের মালিগাছা ইউনিয়নের মালিগাছা মজিদপুর গোরস্থানে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে সরকারি বিধিবিধান মেনে দাফন সম্পন্ন করার পরও গোরস্থান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা ওই গোরস্থানে কবর জিয়ারত এবং মসজিদে ঈদের নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আশপাশ গ্রামের সহস্রাধিক নানা শ্রেণির মানুষ।

মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এলজিইডি’র ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা কাজী আলতাফ হোসেন ফিরোজ (৫৬) ঈদের আগেরদিন সন্ধ্যা ৬ টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার মিরপুর-১২ এর বেসরকারি রিজেন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঈদের দিন ভোরে কাজী আলতাফ হোসেনকে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন করা হয় পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মালিগাছা-মজিদপুর গোরস্থানে। তিনি মালিগাছা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এদিকে কাজী আলতাফ হোসেন ফিরোজকে দাফনের পরপরই মসজিদের মাইকে প্রচার করে দেওয়া হয় করোনা আক্রান্ত রোগীকে দাফনের কারণে সংক্রমণ রোধে এই গোরস্থানে কবর জিয়ারত বন্ধ ও ওই মসজিদে ঈদের নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে দেখা দেয় বিভ্রান্তি। মানুষ নামাজের জন্য নানা মসজিদে ছোটাছুটি শুরু করে।

মালিগাছা গ্রামের বাসিন্দা পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল বাতেন বলেন, কোভিড-১৯ এর নির্দেশনাবলীতে করোনা আক্রান্ত রোগীকে কবরস্থ করা যাবে না এমন কোনও বিধি নেই। আর সরকারি বিধি মেনেই বিশেষ টিম এই দাফন সম্পন্ন করেছেন। সেখানে করোনা সংক্রমণের কোনও প্রশ্নই আসে না। অথচ অতি উৎসাহী হয়ে একটি মহল এই কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদে ঈদের নামাজ ও কবরস্থানে কবর জিয়ারত বন্ধ করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ একাধিকবার মুঠোফোনে মালিগাছা মজিদপুর গোরস্থান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস অবস্থান করে না। তারপরও প্রায় সাড়ে ১১ ঘন্টা পর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে। সেহেতু করোনা সংক্রমণের কোন ধরনের সুযোগ নেই।

মসজিদে ঈদের নামাজ ও কবর স্থান জিয়ারত বন্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, লকডাউন কেবল মাত্র প্রশাসন করে থাকে। স্থানীয় জনগন বা মসজিদ কমিটির এখতিয়ার নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/টিএন/

লাইভ

টপ