ধান কেটে ঈদ কাটালেন তারা

Send
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৩৯, মে ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৯, মে ২৬, ২০২০

ঈদের দিনও ধান কেটেছেন শ্রমিকরাঈদের আনন্দ নেই ধানকাটা শ্রমিকদের। অভাবের তাড়নায় ঈদের দিনে সোমবার (২৫ মে) ধান কাটতে হয়েছে তাদের। ফলে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে এবার ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতে পারেননি তারা। কৃষকের বাড়িতে ঈদের আয়োজনের খাবার খেলেও অন্য জেলার হওয়ায় ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি তারা। তবে টাঙ্গাইল জেলায় অনেক ধান কাটা শ্রমিক ঈদের দিনে বেকার বসেছিলেন। ফলে ঈদ আয়োজনের খাবার পোলাও-সেমাই তো দূরের কথা তাদের দিনটি কেটেছে অনাহারে। 

সরেজমিনে জেলার বাসাইল উপজেলার কলিয়া গ্রামে ঈদেরদিন দুপুরে গিয়ে দেখা মিলে ধানকাটা শ্রমিকদের। কলিয়া আটারচকে কৃষক বাবর আলী খানের ধান কাটছেন ৭ শমিক।

ঈদের দিন ধান কাটছেন শ্রমিকরা

দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার সর্দারপাড়া গ্রাম থেকে আসা শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘ধান কেটে ঈদ কাটালাম। অভাব ও করোনার কারণে বাড়িতে যাওয়া হয়নি। ছেলে-মেয়েরা ফোন করে কান্না করছিল। এই প্রথম পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদ করলাম। গেরস্থ আমাদের জন্য সেমাই-ভাত ও মাংস রান্না করেছিলেন।’

শ্রমিক আব্দুল হাশেম বলেন,  ‘অভারে কারণে প্রতি বছর ধানকাটা শ্রমিকের কাজ করতে আসি। এবছর করোনার কারণে গাড়ি বন্ধ থাকায় বাড়িতে যেতে পারিনি। এজন্য এবারের ঈদ ধান কেটেই কাটাতে হলো। পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদ করা কেমন কষ্ট লাগে তা আজ বুঝলাম।’
কৃষক বাবর আলী খান বলেন, ‘গত দুইদিন আগে ৭ শ্রমিককে আনা হয়েছে। আজ ঈদের দিন নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই তাদের জন্য রান্না করা হয়েছিল। ঈদের দিন হওয়ায় তাদেরকে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কাজ করেই যাচ্ছেন।’

ঈদের দিন এভাবে বেকার কাটিয়েছেন শ্রমিকরা


সাইল সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সামনে দেখা মিলে শতাধিক ধানকাটা শ্রমিকের। কেউ বসে আছেন। আবার কেউ শুয়ে রয়েছেন। মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল তারা না খেয়ে আছেন। ঈদের দিন হওয়ায় তাদের কোনও কৃষক নিতে আসেনি। অলিখিত লকডাউন ও ঈদের জন্য বাসাইল বাজারের খাবের দোকান বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দু’মুঠো ভাত পেটে যায়নি তাদের।



কথা হয় কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার চরশাজাই মন্ডলপাড়া গ্রাম থেকে আসা শ্রমিক দুলাল হোসেনের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য রবিবার (২৪ মে) বের হয়েছিলাম। কিন্তু গাড়ি না চলার কারণে যেতে পারিনি। আবার ঈদের দিন হওয়ায় কোনও কৃষক শ্রমিক নিতেও আসেনি। এজন্য বসে রয়েছি। এখানে বসে তো আর ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবো না। বাজারেও দোকানপাট বন্ধ আমরা না খেয়ে বসে রয়েছি।’

কাজ না থাকায় না খয়েই শুয়ে আছেন শ্রমিকরা

একই জেলার চিলমারী উপজেলা থেকে আসা আরেক শ্রমিক আনছের আলী বলেন, ‘ঈদের দিনে মানুষ নতুন জামা-কাপড় পরে। কিন্তু আমাদের নতুন জামা-কাপড় তো দূরের কথা দুমুঠো ভাতও জোটেনি কপালে। এই প্রথম বাইরে ঈদ কাটালাম। বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় যেতে পারিনি। ছেলে-মেয়েরা ফোন করে কান্না করছিল। তখন বুঝলাম আসলেই আজ ঈদ।’

 

/এসটি/

লাইভ

টপ