ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

Send
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:০০, মে ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫২, মে ৩০, ২০২০

বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ধানঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং এরপর ভারি বৃষ্টিপাতে জয়পুরহাটে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলা বৃষ্টিতে ঝরে গেছে অসংখ্য জমির ধান। ঝড়ের তীব্র বাতাসে কয়েক শত বিঘা জমিতে ধান হেলে পড়েছে। পাকা ধান ডুবে গেছে বৃষ্টির পানিতে। শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে জেলা সদরসহ ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার বেশ কিছু ফসলের মাঠ ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, এই বছর জেলায় বোরো চাষ হয় ৬৯ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি হেক্টরে গড়ে ৬ মেট্রিক টনেরও বেশি ধান উৎপাদনের আশা করে কৃষি বিভাগ।
কিন্তু ধান কাটার সময়ের ঠিক আগে ঈদের রাত থেকে কয়েক দফায় ঝড়ে জমিতে হেলে পড়েছে ধান। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে অধিকাংশ জমির ধানই ডুবে আছে পানিতে। গত বুধবার (২৭ মে) ভোর রাতে ব্যাপক শিলা বৃষ্টিতে সদর উপজেলার হিচমি ও ধারকি এবং কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের কয়েকটি ফসলের মাঠের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানিতে নেমে অনেকেই ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে মেঘলা আকাশের কারণে ধান শুকাতে পারছেন না।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার হিচমি, কোমরগ্রাম ও বানিয়াপাড়া, ক্ষেতলাল উপজেলার তিলাবদুল, মালিপাড়া এবং কালাই উপজেলার চক লয়াপাড়া, করিমপুর ও বামনগ্রাম মাঠে গিয়ে দেখা গেছে সব জমির বোরো ধান জমিতেই হেলে পড়েছে।

সদর উপজেলার হিচমি গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, ‘তিন বিঘা জমির বোরো ধান পানিতে ডুবে থাকায় ধানে ট্যাক ধরেছে। অনেক কষ্টে সেগুলো কাটার পর মাত্র ৩০ মণ ধান পেয়েছি। ধান কাটতে দিনমজুরদের দিতে হয়েছে ১২ হাজার টাকা। বাকি টাকায় উৎপাদন খরচই উঠবে না।’

কালাই উপজেলার চক লয়াপাড়া গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঝড় ও বৃষ্টিতে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ধান ডুবে গেছে। বুধবার হঠাৎ করে শিলা বৃষ্টি হওয়ায় জমিতেই অনেক ধান ঝরে গেছে। বিঘাপ্রতি ফলন এবার অনেক কম হবে।’

কাদিরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওহাব বলেন, ‘শিলা বৃষ্টিতে ১৬ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। শুধু খড় ছাড়া কিছুই নেই।’
একই গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, অন্যের সাড়ে তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে তিনি এবার বোরো ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালোই হয়েছিল। কিন্তু ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে তার সব ধান ঝরে গেছে। একই অবস্থা ওই এলাকার শত শত কৃষকের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স. ম. মেফতাহুল বারি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি জেলায় এবার ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে গোটা জেলায় দুই হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমির বোরো ধান ঝড়ে হেলে পড়ে বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। দুই একদিনের মধ্যে আবহাওয়া ভালো হলে ধানের কোনও ক্ষতি হবে না।’

/এনএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ