এমপি সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:১৫, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৪৫, জুন ০৩, ২০২০

সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভরংপুর শহরের দর্শনা এলাকায় রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাদ এরশাদের পল্লী নিবাস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান টিটোর সমর্থকরা। এর আগে সাদ এরশাদকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে টিটোকে আটক করে পুলিশ। টিটোকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ঘেরাও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ার করেন বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১১টার দিকে দেখা যায়, সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন নেতাকর্মীরা। এ সময় বাসভবনের নিচ তলার চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন তারা।

রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান জানান,  জাপা নেতা টিটোকে আটক নয়; জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। 

সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভজাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানান, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক টিটো দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাদ এরশাদের বাসভবনে যান। এ সময় সংসদ সদস্য ও এরশাদ পুত্র সাদ এরশাদ এবং তার স্ত্রী বাসার নিচ তলার বৈঠকখানায় বসেছিলেন। তখন টিটো একটি ডিও লেটারে এমপির স্বাক্ষর নিতে গেলে তার এপিএস প্রিন্স ও অপর একজন টিটোর হাত থেকে ডিও লেটার কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে টিটোর সঙ্গে সাদ এরশাদের এপিএস এর হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সাদ এরশাদকে ধাক্কাধাক্কি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে টিটোকে আটক করে তাজহাট থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে টিটো সমর্থিত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পল্লী নিবাস বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া রংপুর সিটি মেয়র ও জাপার রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ জাপা, যুবসংহতি ও ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা এসে পল্লী নিবাসের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন এবং টিটোর মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিটো সমর্থিত জাপা নোতকর্মীরা পল্লী নিবাসের ফটকের সামনে সমাবেশ করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন যুব সংহতির রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি শাহিন হোসেন জাকির, সাধারণ সম্পাদক শান্তি কাদেরিসহ কয়েকজন নেতা।

সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভনেতারা অভিযোগ করেন, এরশাদ মারা যাওয়ার পর সদর আসনে সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলের সব নেতাকর্মীরা উপনির্বাচনে তার পক্ষে জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সাদ এরশাদ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন না। মূল্যায়ন করেন না; বরং প্রিন্স নামে অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে এপিএস বানিয়ে তাকে দিয়ে সব কাজকর্ম করান। এজন্য টিটোর মুক্তি এবং সাদ এরশাদের এপিএস প্রিন্সকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং গ্রেফতারের দাবি করেন তারা ।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১১টায় সিটি মেয়র মোস্তফার নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা পল্লী নিবাস বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। এদিকে জাপার পল্লী নিবাস  ঘেরাও করে বিক্ষোভ করার ছবি ধারণ করতে গেলে টিভি ও প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা দফায় দফায় বাঁধার শিকার হন। বর্তমানে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ-র‌্যাব সদস্য অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র মোস্তফা কোনও কথা বলবেন না বলে জানান। তবে বুধবার (৩ জুন) সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চেয়েছেন তিনি।

এদিকে, সাদ এরশাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এদিকে তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত সাদ এরশাদের পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

/আইএ/

লাইভ

টপ