কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও মানা হচ্ছে না

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০৭, জুন ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৭, জুন ০৫, ২০২০

হিলি

করোনাভাইরাসের কারণে সরকার জুন পর্যন্ত সব এনজিওর কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলেও দিনাজপুরের হিলিতে সেই নির্দেশনা অমান্য করে কিস্তি আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এমনকি কিস্তি আদায়ের জন্য গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকা ও হুমকি প্রদানের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এদিকে আয় উপার্জন ও ব্যবসা না থাকায় কিস্তি দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫-২০টির মতো বিভিন্ন এনজিও কার্যক্রম চালমান।

হিলি বাজারের খাদ্যগুদাম মোড়ের চা বিক্রেতা খাদেমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'বাজারে আমার একটি চায়ের দোকান রয়েছে, যেখানে আমি নিজেসহ আরও দুজন কাজ করি, সারাদিন যা চা বিক্রি হয় তাই দিয়ে কর্মচারীদের বেতন নিয়ে কোনরকমে আমাদের সংসার চলতো। করোনার কারণে ২৬ মার্চ থেকে দোকান বন্ধ। এদিকে ব্যবসার জন্য আমার মায়ের নামে গণউন্নয়ন কেন্দ্র নামের একটি এনজিও থেকে লোন নিয়েছিলাম। এনজিও কর্মীরা আমাদের বাড়িতে গিয়ে কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন।'

হিলি বাজারের জুতা ব্যবসায়ী নাহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ব্যবসার জন্য স্থানীয় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলাম, যা দিয়ে দোকানের মাল উঠিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে হিলিতে শুরু থেকেই সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। যার কারণে আমাদের কোনও ব্যবসা নেই। এমন অবস্থায় এনজিও থেকে ফোন দিয়ে কিস্তি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, তারা সময়ও দিতে চাচ্ছেন না।

হিলি বাজারের হোটেল শ্রমিক নাজমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্থানীয় আশা নামের একটি এনজিও থেকে কিছু টাকা লোন নিয়ে টিন কিনে বাড়ি করেছিলাম। এখন সেই কিস্তির টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে, বাড়িতে পর্যন্ত আসছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক এনজিও ম্যানেজার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা আমাদের গ্রাহকদের বাড়িতে যাচ্ছি, তাদের সঙ্গে দেখা করে ভালো মন্দ খোঁজ খবর নিচ্ছি, এরপরে তাদের কিস্তি পরিশোধের জন্য বলছি। যদি কেউ কিস্তি দিতে রাজি বা আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তারটা নেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি অপারগতা প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে তার কিস্তি নেওয়া হচ্ছে না বা চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে না।'

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় কার্যক্রম সরকার বন্ধ ঘোষণা করে, যা চলতি জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এবিষয়ে উপজেলার সব এনজিওকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। এর পরেও যদি কোন এনজিও তাদের কিস্তি আদায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখে, আমরা যদি অভিযোগ পাই, তাহলে সেই এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ