নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এর সিরাজগঞ্জ কার্যালয়ের প্রি-পেইড ইউনিটে হয়রানির প্রতিবাদ করায় পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও জানপুর মহল্লার বাসিন্দা শাহিন আহম্মেদ ভোলাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা-বিষয়ক সম্পাদক এবং ভোলার ভাই আনোয়ার হোসেন ফারুক বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রি-পেইড মিটার ইউনিটে প্রেষণায় থাকা অ্যাসিসট্যান্ট-কাম-সিস্টেম সুপারভাইজার শফিকুজ্জামান নোমান ও তার ভাই মেজবাহসহ নেসকোর স্থানীয় দালাল চক্রের সাত সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকালে জানান, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'
নেসকোর সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলী গোবিন্দ চন্দ্র সাহা বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।'
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাহক হয়রানি বা মারধরের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির মধ্যে প্রিপেইড মিটার ভেন্ডিং স্টেশনের বুথগুলো বিকল হওয়ার সুযোগে সিস্টেম সুপারভাইজার নোমানসহ তার অনুসারি কয়েকজন ঘুষ পেতে প্রায়ই গ্রাহকদের কৌশলে প্যাচে ফেলে হয়রানি করে আসছিল। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন গ্রাহক নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এসব বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দেন। সুপারভাইজার নোমানসহ কয়েকজন অসাধু কর্মচারী ও দালাল এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর সামনে গ্রাহকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় শাহিন আহম্মেদ প্রতিবাদ করলে পরে অফিসের গেটের সামনে তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই সিস্টেম সুপরভাইজার নোমানসহ অন্য আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতা ভোলাকে প্রথমে আভিসিনা ও পরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. শামিম আহম্মেদ ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকায় ভোলাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।








