খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের

Send
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫১, জুলাই ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫১, জুলাই ০৪, ২০২০

বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি



নদ-নদীর পানি কমায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি পানিবন্দি চার উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের। পানিবন্দি অধিকাংশ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু সড়কে। এসব মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনা খাবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। খাবার না থাকায় অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে দুর্গতদের।

প্লাবিত এলাকা

প্রশাসনের হিসাবে, জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিম্নএলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ। গত ১৫ দিনে সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম বিলীন হয়েছে। ভাঙনে অন্তত ২ হাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনে ফুলছড়ি উপজেলার সাত ইউনিয়নের ৬৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ।

বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি
সরেজমিনে দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় গরু-ছাগল আর ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে কোনোরকমে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু সড়কে। কাজকর্ম নেই, ঘরে খাবারও নেই তাদের। ৫-৭ দিন ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন তারা। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে সরকারিভাবে চাল ও নগদ টাকাসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ বানভাসি মানুষের। 

প্লাবিত এলাকা

বন্যায় চার উপজেলার ৩ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার ৩ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির পাট, ১৯৬ হেক্টর আউশ ধান ও ১২৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে ৪৩ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা, ৪৪ হেক্টর তিল ও ২০ হেক্টর জমির চিনা বাদাম। বন্যায় জেলার দুই হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা
এছাড়া পানিতে ভেসে গেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় পুকুর ও জলাশয়ের মাছ। এতে মৎস্য চাষিদের অন্তত ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু দাইয়ান।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, বৃষ্টি আর উজানের ঢলে চার উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। তবে গত তিনদিন ধরে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনিবার সকাল পর্যন্ত (৪ জুলাই) ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমে ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়ার পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী বলেন, দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও ৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রিতিনিধিরা দুর্গতদের তালিকা করে এসব চাল ও নগদ টাকা পর্যায় ক্রমে বিতরণ করবে।

বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা
জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন জানান, বন্যার্তদের জন্য চরাঞ্চলসহ ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ভেঙে যাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোতে মেরামতের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দুর্গত এলাকায় ৬১টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ