প্রস্তুত আড়াই লাখ পশু, বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫০, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৩, জুলাই ০৫, ২০২০

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি ও উল্লাপাড়ার মোহনপুরসহ সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে করোনায় পশু পরিবহন, ক্রেতা সমাগম ও দাম ঠিকমতো পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারি ও বিক্রেতারা।

শাহজাদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের চরগুধিবাড়ি গ্রামের খামার হাজী গোলজার হোসেন বলেন, ‘কোরবানির জন্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমার খামারে ৮টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। করোনার মধ্যে এসব গরু কোথায় বিক্রি করবো বা ক্রেতা পাবো কিনা তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় আছি। প্রতি গরুর পেছনে প্রতিদিন ৩৫০-৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে।’

খামারি বেলাল সরকার জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তিনটি ষাঁড় প্রস্তুত করছি। এগুলো বিক্রি করে ঠিকমতো দাম পাবো কিনা, তার জন্য দুশ্চিন্তায় আছি। পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি গ্রামের খামারি ও মিল্কভিটার পরিচালক আব্দুস সামাদ ফকির বলেন,  ‘বর্তমান সময়ে বাঘাবাড়ি অঞ্চলে গো-খাদ্যের দামও বেশি, তারপরেও পাঁচটি ষাঁড় প্রস্তুত করছি। ঠিকমতো দাম পাবো কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু
উল্লাপাড়ার পশ্চিমপাড়ার খামারি রিমন মন্ডল জানান, প্রতিবছর ঢাকা-চট্টগ্রামের পার্টিরা সরাসরি খামার থেকে গরু নিয়ে যায়। এবছর ১০-১২টি গরু নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। করোনার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা আসবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পংরৌহা গ্রামের রেজাউল হোসেন জানান, অনেক অর্থ ব্যয় করে ৮টি গরু প্রস্তুত করেছি। বাইরের পার্টি না পেলে স্থানীয় হাটে তুলতে হবে। সচেতন ক্রেতারা করনোর ভয়ে অধিকাংশই হাটে যাবেন না। আদৌ বিক্রি হবে কিনা, এ নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি।
বড় পাঙ্গাসীর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি সজীব আহম্মেদ বলেন, ‘প্রতিবছর পার্শ্ববর্তী বোয়ালিয়া, জনতা, বড়হর ও গ্যাসলাইন হাটে গিয়ে সরাসরি গবাদি পশু বিক্রি করি। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে সেভাবে গরুর হাটও বসবে বা ক্রেতা সমাগম হবে কিনা তা বুঝতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগে আছি।’
কামারখন্দের রায়দৌলতপুর গ্রামের রকিব ভুইয়া বলেন, ‘প্রতিবছর খুলনা, ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির অনেক আগেই গরু বিক্রি করে থাকি। এ বছর ৮-১০টি গরু বিক্রির প্রতিশ্রুতি পেলেও বাকি ১০টি কোথায় বিক্রি করবো, এ নিয়ে চরম অনিশ্চতায় রয়েছি।’

কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরু
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান ভুইয়া জানান, প্রতিবছরই আমরা খামারিদের যেমন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেই, এবার কোরবানির আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা নিয়ে খামারি বা বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি যৌক্তিক। ক্রেতা ঠিকমতো না পেলে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেবে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার বিভিন্ন স্থানে গরু-ছাগলের হাট পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘করোনায় কোরবানির আগে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ক্রেতা-বিক্রেতারা কতটুকু মানবে তা নিয়ে আমরাও বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। সেজন্য অনলাইনে গবাদি পশুর বিক্রির বিষয়েই সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ