দাবি মানলো ভারত, বেনাপোল বন্দর দিয়ে রফতানি শুরু

Send
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫৫, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৩, জুলাই ০৫, ২০২০

বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি শুরুঅবশেষে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে আমদানিতে রাজি হয়েছে ভারতীয় পক্ষ। এর ফলে ১ জুলাই বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই দেশের বাণিজ্য আবারও শুরু হয়েছে চার দিন পর আজ রবিবার (৫ জুলাই)।

এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় বেনাপোলে রফতানির জন্য দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে রফতানির উদ্দেশে প্রবেশ শুরু করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি শুরু হলো।

বন্দরের একটি সূত্র জানায়, ভারতীয় পক্ষ করোনাভাইরাসের কারণে নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে বাংলাদেশি পণ্য গ্রহণ করছিল না। ফলে তাদের একচেটিয়া বাণিজ্য চলছিল। আর বাংলাদেশি রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। অবশেষে তারা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য পাঠাতে বলেন। 

বেনাপোল বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার রোধে ভারত সরকারের দেওয়া একের পর এক লকডাউনের কারণে গত ২২ মার্চ থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও উভয় দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় বৈঠক করে একপর্যায়ে গত ৭ জুন থেকে আমদানি বাণিজ্য সচল করলেও ভারত বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্য নিতে রাজি হচ্ছিল না। শুরুর দিকে ভারতের একতরফা বাণিজ্য মেনে নিলেও টানা দেড় সপ্তাহও ভারতের আমদানি পণ্যের ব্যাপারে আগ্রহ না দেখে বিষয়টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশি রফতানিকারকরা। কারণ, টানা তিন মাস ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এ দেশের রফতানি পণ্যের মান অক্ষত রাখাও কঠিন হচ্ছিল। তাছাড়া প্রতিনিয়ত বাড়ছিল ট্রাক ভাড়াসহ নানা ধরনের খরচ। এরপর বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে রফতানিকারকরা আলোচনা করে সবাই মিলে ঐকমত্যে আসে, ভারত বাংলাদেশি রফতানি পণ্য নিতে না চাইলে দেশটির আমদানি পণ্য আর গ্রহণ করা হবে না। বিষয়টি ভারতীয় পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হলে দুই দেশের ব্যবসায় হঠাৎ স্থবিরতা নেমে আসে। গত বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি  মফিজুর রহমান সজন জানান, ভারত আমদানি পণ্য দিলেও তারা বাংলাদেশি রফতানি পণ্য গ্রহণ করছিল না। যার জন্য রফতানিকারকরা ভারত থেকে আসা আমদানি বাণিজ্য গত ১ জুলাই সকাল থেকে বন্ধের ঘোষণা দেয়। আলাপ আলোচনা করে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর আজ থেকে ভারত বাংলাদেশি রফতানি পণ্য নিচ্ছে। করোনার ক্রান্তিসময়ে স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য নির্দেশনা মেনে আজ বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রফতানি শুরু হয়েছে। রফতানি বাণিজ্য সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, যে সমস্ত বাংলাদেশি ট্রাকচালকরা রফতানি পণ্য নিয়ে ভারতে যান তাদের দ্বারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ভারত এতদিন বাংলাদেশ থেকে রফতানি পণ্য নেয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশি রফতানিকারকরা পণ্য দিতে চাইলে তারা তাতে রাজি হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি ট্রাকচালকরা যাতে পোর্টের বাইরে যেতে না পারেন সে ব্যাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে পেট্রাপোল বন্দর। বাংলাদেশি ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রফতানির পণ্য নিয়ে ভারতে পাঠানো হচ্ছে। আগামীকাল যথারীতি ভারত থেকে আমদানি বাণিজ্যও চালু হবে বলে আশা করা যায়।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশি রফতানি পণ্য নেওয়া হচ্ছিল না। বিশেষ নিরাপত্তা ও দুই দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনার একপর্যায়ে রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ