করোনা ও উপসর্গে ৯ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৫৫, জুলাই ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০৪, জুলাই ০৬, ২০২০

করোনাভাইরাস (গ্রাফিক্স: মারুফ রেহান)





করোনা ভাইরাসে ও করোনার উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতলে আরও বেশ কয়েকজন রোগী মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে সব জেলায়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:


করোনাভাইরাসের তথ্য গোপন করে হাসপাতালে নেওয়া বৃদ্ধার মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সন্ধ্যা রানী (৭০)নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আজ রবিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে স্বজনেরা চিকিৎসা সেবা দিতে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। মৃত সন্ধ্যা রানী জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামের মৃত শচীন্দ্র সরকারের স্ত্রী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা রানী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর নমুনা দেওয়া হয়। রাতে আসা ফলাফলে তিনি করোনা আক্রান্ত বলে জানা যায়।
আজ রবিবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে স্বজনদের কথায় সন্ধ্যা রানীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগী হিসেবে ভর্তি করানো হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা জেনে যান যে ওই নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ সময় তাঁকে হাসপাতাল অভ্যন্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। এ প্রস্তুতি নিতে নিতেই তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, ওই বৃদ্ধার স্বজনেরা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি গোপন করেছিলেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা বিষয়টি জানার পর আইসোলেশেন সেন্টারে পাঠানোর সময় তিনি মারা যান।
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও ৮২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হলো ১২৬০ জন। আজ রবিবার (৫ জুলাই) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ।

সিভিল সার্জন জানান, সরকারি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টার ল্যাবে ৩৮৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে ৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জনের শরীরে কোভিড ১৯-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। নতুন আক্রান্তের মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬, নবীনগরে ২৪, কসবায় ১১, বিজয়নগরে ৭, আশুগঞ্জে ৬, আখাউড়ায় ৬ এবং সরাইলে ২ জন।
জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭০ জন। এখনো আইসোলেশনে আছেন ৯০৬ জন। এর মধ্যে জেলার অভ্যন্তরে ৮৭২ জন এবং অন্য জেলাতে ৩৪ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২২ জন।

পাবনায় নতুন করে দুইজনের মৃত্যু, মোট শনাক্ত ৫৫৮

পাবনা প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাবনায় নতুন করে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ জন মারা গেলেন। সেই সঙ্গে রবিবার (৫ জুলাই) নতুন করে জেলায় ১১০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫৮ জনে।

মৃত দু’জন হলেন পাবনা পৌর সদরের শালগাড়িয়া মহল্লার আইয়ুব আলী (৫৫) ও শিবরামপুর মহল্লার সালাউদ্দিন (৫৬)। তারা দু’জন ব্যবসায়ী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আইয়ুব আলী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে এবং সালাউদ্দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে মারা গেছেন।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সালাউদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৬ জুন তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে করোনা ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে রবিবার দুপুরে তিনি মারা যান। অন্যদিকে আইয়ুব আলী জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে ২৬ জুন তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলায় কোনও পিসিআর ল্যাব না থাকায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ল্যাবে নমুনার চাপ বেশি থাকায় পরীক্ষার ফলাফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ পর্যন্ত ৬ হাজার ১৩৮টি নমুনা দিয়ে ৬ হাজার ৭২টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। এ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৮।

সিভিল সার্জন ডাক্তার মেহেদী ইকবাল বলেন, মোট শনাক্ত বিবেচনায় জেলা সদর ও সুজানগর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪৯ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল করোনা ইউনিটে ১২ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। অন্যদের শরীরে তেমন কোনও উপসর্গ না থাকায় বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন গত ১৬ এপ্রিল। এরপর মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত দেড় মাসে ৩৬ জন শনাক্ত হন। আর পুরো জুন মাস ও জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিন মিলিয়ে ৩৫ দিনে এই সংখ্যা ৫৫৮ জনে পৌঁছালো।

ময়মনসিংহে করোনা আক্রান্ত নারীসহ দুই জনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হচ্ছেন ময়মনসিংহ সদরের বলাশপুর এলাকার আবুল কাশেম আজাদ (৫৫) ও ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামের নীলুফার বেগম (৫২) ।
দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার এবিএম মশিউল আলম জানান, গত ২৩ জুন আবুল কাশেম আজাদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। এরপর তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত শুক্রবার (৩ জুন) এসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম আজাদ রবিবার (৫ জুন) বেলা সাড়ে বারোটার সময় মারা যান। একইদিনে ত্রিশালের কাজীর শিমলা এলাকায় নিজ বাড়িতে করোনা পজিটিভ নীলুফার বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার সময় মারা যান। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুইজনেরই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।
এ পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৬ জন, এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৯৬ জন এবং মারা গেছেন ২৩ জন।

নোয়াখালীতে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীতে করোনায় গত ২ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের। মৃতরা তিন ব্যক্তি বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী এবং কবিরহাট উপজেলার বাসিন্দা। জেলায় এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৪৯ ।
এদিকে, নোয়াখালীর সদরে ১০, কবিরহাটে ৯ ও কোম্পানীগঞ্জে ৬ জনসহ অন্য উপজেলাগুলোতে আরও ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে নোয়াখালীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ২৬৪ জনে।
নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩৪ জন। সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০৩ জনে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার রবিবার (৫ জুলাই) এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন সদরে ৬৯৩, বেগমগঞ্জে ৬৬৫ জন, কবিরহাটে ২৪৫, চাটখিলে ১৪১, সেনবাগে ১০২, সোনাইমুড়ীতে ১১৯, সুবর্ণচরে ১৩৯, কোম্পানীগঞ্জে ১২৩ ও হাতিয়ায় ৩৭ জনসহ জেলায় মোট ২২৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
মৃত ৪৯ জনের মধ্যে বেগমগঞ্জে ২৩, সেনবাগে ৬, সদরে ৮, সোনাইমুড়ীতে ৪, চাটখিলে ৩, কবিরহাট ৩ এবং সুবর্ণচরে ও কোম্পানীগঞ্জ ১ জন করে।
তিনি আরও জানান, শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত জেলা কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল ২৯ জন এবং হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০৮৩ জন।

বগুড়ায় করোনায় দুই বৃদ্ধের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬১
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল আইসোলেশনে রবিবার (৫ জুলাই) সকালে করোনা আক্রান্ত দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সিদ্দিক হোসেন (৭৭) মালতিনগর এলাকায় বাস করতেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ৩ জুলাই আইসোলেশনে ভর্তি হন তিনি। নমুনা পরীক্ষায় তিনি করোনা পজিটিভ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ৭টার দিকে তিনি মারা গেছেন।
এছাড়া আবুল হাসেম (৭২) বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার বাসিন্দা। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তেলিহারা গ্রামে। তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় শজিমেক হাসপাতাল আইসোলেশনে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহ প্রস্তুত ও জানাজা শেষে দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার সংগঠক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, জীবানুমুক্ত ও জানাজার পর স্বজনরা সিদ্দিক হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গাবতলীর সুখানপুকুরে এবং আবুল হাসেমের মরদেহ গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে গেছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় নতুন আরও ৬১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৮ নারী ও দুই শিশু। এ নিয়ে গত ৯৬ দিনে জেলায় করোনা পজিটিভ হয়েছেন তিন হাজার ৩০৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯৩৭ জন ও মারা গেছেন ৬১ জন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এ তথ্য দিয়েছেন।

মাগুরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মুত্যু
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে শফিউদ্দিন চোপদার (৭৫) নামে এক ব্যক্তি গতকাল রবিবার ভোরে মারা গেছেন। তিনি পৌরসভার ভায়না চোপদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন। শনিবার মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। কিন্তু, রবিবার (৫ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, শনিবার মৃত ব্যক্তিসহ ৪৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ফল আসেনি।
এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯৩ জন মাগুরা পৌর এলাকার। সুস্থ হয়েছেন ৫২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন ১০৩ জন। জেলার বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে ৭ জনকে। জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৪ জন।


গোপালগঞ্জে একজনের মৃত্যু
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিসাধীন ওসমান আলী শেখ (৭০) মারা গেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি উপজেলার পাটগাতীর দক্ষিণ পাড়া গ্রামে।
ওসমান আলী ১ জুলাই করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। নমুনা পরীক্ষায় তার ফল করোনা পজিটিভ আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওসমান আলি শেখ দীর্ঘদিন এজমা রোগে ভূগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আজ সকালে স্বাস্থ্য বিধি মেনে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, গোপালগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আরও ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৯৯ জনে। গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, জেলায় মোট ৫ হাজার ৫৮৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর, কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলায় মোট ১৩ জন মারা গেছেন। ৪৩১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ৩৫৬ জন জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে আরও ৩২ জনের করোনা শনাক্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ হাজার ৩২৩ জনে। এদিন নতুন কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ জেলায় করোনায় মোট ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হয়েছেন আরও ২০২ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৯৩৯ জন। রবিবার (৫ জুলাই) জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

উপসর্গ ছাড়াই করোনা পজিটিভ রাবির নেপালি শিক্ষার্থী

রাবি প্রতিনিধি জানান, উপসর্গ ছাড়াই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত এক নেপালি শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। তার নাম অভিষেক কুমার সাহা।

শনিবার তার করোনার শনাক্ত হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় রবিবার (০৫ জুলাই)।

অভিষেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ূম ইন্টারন্যাশনাল ডরমিটরি’র ওয়ার্ডের অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। তিনি দেশে যাওয়ার জন্য নেপাল দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। দূতাবাস তাকে করোনা পরীক্ষা করতে বলে। শনিবার তার নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ আসে। সে খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে আগেই কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। বর্তমানে ডরমিটরিতে দেশি-বিদেশি মিলে ৩২জন শিক্ষার্থী ও গবেষক আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে মানসিকভাবে সুস্থ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তার খোঁজ-খবর রাখছে। তার সংস্পর্শে থাকা আরেক নেপালি শিক্ষার্থীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা নেওয়া হবে। পুরো ডরমিটরি লকডাউন করা হয়েছে।


 

/আরআইজে/টিএন/

লাইভ

টপ