চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৮:৩৪, জুলাই ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৬, জুলাই ০৬, ২০২০

চমেক

চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এক মানসিক রোগীসহ দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনরা। তাদের একজন রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মারা যান। অন্যজন মানসিক ওয়ার্ডে মারা যান।

মৃত দুই নারী হলেন- শামীমা আক্তার ও রেশমী আক্তার। এদের মধ্যে শামীমাা আক্তার মানসিক রোগী ছিলেন। অন্যজন রেশমী আক্তার ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রেশমীর ভাই রবিউল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডায়রিয়া শুরু হলে রবিবার সকাল ১০টায় আমার বোনকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে তাকে প্রথমে ১৩ নাম্বার ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই তাকে করোনা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে কোনও ডাক্তার আমার বোনকে দেখতে আসেনি। হাসপাতালে আনার পরেও বিনা চিকিৎসায় আমার বোন মারা যায়।’

তিনি আরও বলেন, আমার বোনের করোনার লক্ষণ ছিল না। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে করোনা ওয়ার্ডে নেওয়ার সময় আমরা বারবার তাদের বলেছি। এরপরও তারা তাকে করোনা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, শামীমা আক্তারের মেয়ের জামাই মো. আরিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মানসিক সমস্যা দেখা দিলে কয়েকদিন আগে আমরা উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত চার-পাঁচ দিন উনাকে বেঁধে রাখা হয়। দিন দিন উনার অবস্থা আরও অবনতি হতে থাকে। কিন্তু ডাক্তাররা তাকে কখনও দেখতে আসেননি। চিকিৎসা না পেয়ে আজ তিনি মারা যান।

তিনি আরও বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর আমরা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি। হাসপাতালে অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনতে চাননি। আনসার বাহিনী দিয়ে আমাদের বের করে দিয়েছেন। মরদেহ দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের বাধ্য করেছেন।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ পরিচালক আফতাবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকালে মারা যাওয়া মানসিক রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ওই ওয়ার্ডের প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি এই ঘটনায় দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডায়রিয়া নিয়ে মারা যাওয়া অপর নারীর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকে শুনেছি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়টিও তদন্ত করে দেখবো।

/টিএন/

লাইভ

টপ