লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Send
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৩২, জুলাই ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৮, জুলাই ১২, ২০২০

লালমনিরহাট তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকার সড়ক ও বাড়িঘরে এখন হাঁটু পানি। (ছবি: মোয়াজ্জেম হোসেন)


লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সীমানা দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে শনিবার (১১ জুলাই) বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ১২টায় তা ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবার সকাল থেকে পানি কমলেও দুপুরের দিক থেকে পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার বিকাল ৩টায় ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


শনিবার বিকাল ৩টায় হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহ পরিমাপ করা হয়। যা স্বাভাবিক বিপদসীমার পানিপ্রবাহ ৫২.৬০ সেন্টিমিটার থেকে ২৮ সেন্টিমিটার বেশি)। যা গত শুক্রবার পানিপ্রবাহ ছিল রাত ১২টায় ৫২দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার।
শুক্রবার সকাল থেকে পানিপ্রবাহ বাড়তে বাড়তে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি পরিমাপক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ।
তিনি আরও বলেন, শনিবার বিকাল থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চলগুলোতে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় রাতে আরও পানি বাড়তে পারে। এজন্য তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্ণা, ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা, রাজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামারী জেলার জলঢাকা, ডিমলা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলার বেশকিছু ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো জল কপাট খুলে দিয়ে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী লোকজনকে নিরাপদে থাকতে দুই জেলার জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে বন্যা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মনিটরিং এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ