অটোরিকশার জন্য বন্ধুকে খুন করে লাশ ভাসিয়ে দেয় নদীতে

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:৫২, জুলাই ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৩, জুলাই ১৩, ২০২০

নিহত রুমানরোজগারের পথ বের করতে বন্ধু রুমানকে (২২) জবাই করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে তার অটোরিকশা ছিনতাই করে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেয় আসলাম। রিমান্ডে আসলাম ও তার স্ত্রী খাদিজা এমনটাই জানিয়েছে পুলিশকে। রবিবার (১২ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। 

রুমান নগরীর সাগরদী এলাকার খালা সুমি বেগমের সঙ্গে থাকতো। একই এলাকায় ভাড়া থাকতো আসলাম ও খাদিজা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আল আমিন জানান,  দু’দিনের রিমান্ডে আসলাম জানিয়েছে, আয়ের পথ বের করতেই তিন মাস আগে বন্ধুকে খুনের পরিকল্পনা করে সে।  পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ জুন রাতে রুমানকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় সে। রাত আনুমানিক ৩টার পরে দুধল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্শেদ খান উজ্জলের বাড়ির পাশে অটো থামাতে বলে। অটোতে তার স্ত্রী খাদিজা বেগম, শাশুড়ি সহিদা বেগম ছিলেন। পান খাওয়ার জন্য রাঙ্গামাটি নদীর পাড়ে নিয়ে যায় রুমানকে। এরপর তাকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে কোমরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে জবাই করে। পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। ফজরের আজানের দিকে অটোর কাছে ফিরে এসে স্ত্রী ও শাশুড়িকে জানায় রুমানকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। তারপর আসলাম অটো চালিয়ে শ্বশুরবাড়ি যায়।

তিনি আরও জানান, রুমানের খালা সুমির করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে তারা কাজ শুরু করেন। এরপর অটোমালিক রিফাতের করা মামলায় যার কাছ থেকে অটোটি উদ্ধার করা হয়েছে তাকে ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে আটককৃতরা হত্যার কথা স্বীকার করে। 

সুমি জানান,  ২৯ জুন রাত ৩টার দিকে সর্বশেষ রুমানের সঙ্গে তার কথা হয়। তারপর তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বোনের ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ায় ৩০ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর কিছুদিন পরে রুমানের ভাড়ায় চালানো অটোটির সন্ধান পাওয়া যায়। আটক করা হয় আসলাম ও তার স্ত্রী খাদিজাকে। 

ওসি নুরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা করা হবে। তবে নিহত রুমানের মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

/এসটি/

লাইভ

টপ