করোনায় মৃতদের দাফনে হাত বাড়ায় যে স্বেচ্ছাসেবী দল

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৩৫, জুলাই ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪০, জুলাই ৩০, ২০২০

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ‘আল মদিনা যুব ফাউন্ডেশন’ এর কিছু স্বেচ্ছাসেবী যুবক করোনায় মৃতদের দাফনে হাত বাড়িয়েছেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন-কাফনে কাজ করছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার একদল যুবক। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আল মদিনা যুব ফাউন্ডেশন’র ব্যানারে তারা করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী দাফন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ইতোমধ্যে উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ৭ জনকে তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছেন তারা।

আল মদিনা যুব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসির উদ্দিন শাহ জানান, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করার অঙ্গীকার নিয়ে এ সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। যার সদস্য সংখ্যা ১৩৫ জন। বর্তমানে করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মরদেহের দাফনেও অনেক ক্ষেত্রে তার স্বজনরা এগিয়ে আসে না। এমন দৃশ্য দেখে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের চিন্তা মাথায় আসে তাদের। ‘করোনা মৃত্যু ভয়, করিব জয়’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে গ্রামের যুবকরা একত্রিত হয়ে গঠন করেন মরদেহ দাফনের সমন্বিত বাহিনী।

সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত হয়ে কোনও ব্যক্তি মারা গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের জানাজা ও দাফনের সকল আনুষ্ঠানিকতার কাজ শুরু করেন তারা। দাফনের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনের ২০ সদস্য প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। এরপর থেকেই মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে মরদেহ দাফন করে চলেছেন তারা।

করোনায় মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ দাফনের কাজ করছেন আল মদিনা যুব ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

মরদেহ দাফন ছাড়াও করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও দুঃস্থ ৬৫ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে এ সংগঠনটি। করোনায় জনসচেতনতায় প্রচারণার পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় রক্ত দান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছে আল মদিনা যুব ফাউন্ডেশন।

এ ব্যাপারে উপজেলার বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি ও আগৈলঝাড়ার থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন তো দূরের কথা মরদেহ দেখতেও আসে না স্বজনরা। ওই যুবকরা না থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ দাফনে চরম অসুবিধায় পরতে হতো। তখন স্বাস্থ্য অধিদফতরের লোকজন এনে মরদেহ দাফন করতে হতো। তারা সমাজের জন্য নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ করে চলেছে। সংগঠনের সাফল্য কামনা করে তাদের পাশে থেকে সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করার আশ্বাসও প্রদান করেন তারা।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই উপজেলার পয়সা গ্রামের বাসিন্দা পয়সারহাটের ব্যবসায়ী হাসান মিয়া (৫২), ৯ জুলাই বারপাইকা গ্রামের মমতাজ বেগম (৫৫), ৬ জুলাই আমবৌলা গ্রামের গোলাম সরোয়ার (৬০), ৭ জুন ছয়গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৪৬), ৮ জুন মোল্লাপাড়া গ্রামের নুর আলম (৭০), ৬ জুন বাগধা গ্রামের শাহজাহান ভাট্টি (৬৫), ১৬ মে বেলুহার গ্রামের রোমান কাজী (৩২) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাদের দাফন সম্পন্ন করেন ওই সংগঠনের সদস্যরা।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ