খুলনা নগরীতে বাড়ছে অপরাধ

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০৬, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৯, আগস্ট ০৯, ২০২০

খুলনাকরোনা পরিস্থিতির মধ্যেও খুলনায় অপরাধ বেড়ে চলেছে। লকডাউন উঠে যাওয়ায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করে। আর এর সঙ্গে অপরাধও বেড়েছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, মাদকের রমারমা ব্যবসা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে তুলেছে।

গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষের ছোটাছুটি ছিল না। নগরীর দুটি ওয়ার্ড ও একটি ইউনিয়নে লকডাউন শেষ হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে নগরী। সেই সঙ্গে খুন, মাদক ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়তে থাকে। গত চার মাসে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মামলা পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত কেএমপির আট থানায় মামলার সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে।

কেএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কানাই লাল সরকার জানান, গত চার মাসে মামলা হয়েছে ৩২৭টি। এর মধ্যে পাঁচটি খুন, আটটি ধর্ষণ ও ২২২টি মাদক মামলা রয়েছে। এপ্রিল মাসে কোনও খুন ও ধর্ষণের মামলা নেই, সাতটি মাদকসহ ২১টি মামলা হয়। মে মাসে খুন না থাকলেও ধর্ষণ মামলা চারটি, পাঁচটি মাদকসহ মামলা ৪১টি। জুন মাসে দুটি খুন, একটি ধর্ষণ ও ৫১টি মাদকসহ মোট মামলা ৭৩টি। জুলাই মাসে দুটি খুন, তিনটি ধর্ষণ ও ১৫৯টি মাদকসহ মামলা ১৯২টি। মামলার সংখ্যা গত চার মাসে ক্রমেই বেড়েছে। মাদকের মামলার সংখ্যা বেশি ।

হঠাৎ করে মাদকের মামলা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। এক বিজ্ঞপ্তিতে মাদক বিক্রেতাদের লাগাম টেনে ধরতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক তিন থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কেএমপি কমিশনার খোন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। নিয়মিত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে।’

এমন পরিস্থিতিতে রবিবার খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির আগস্ট মাসের সভা অনলাইনে জুম প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

সভায় পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে খুলনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সরকারি ত্রাণের সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। খুলনা-ডুমুরিয়া-সাতক্ষীরা নবনির্মিত মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে রোড মার্কিং এবং দাকোপে মদের দোকান বন্ধের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সভার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, অবাঞ্ছিত পাসপোর্ট গ্রহণের সুযোগ বন্ধে জন্ম সনদ নিয়ে পাসপোর্ট ইস্যু না করাসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ আলী জানান, জুলাই মাসে খুলনা জেলায় ৯১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৪৪টি মামলা, ২৪৭ জনকে দণ্ড প্রদান এবং ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সভায় পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, সরকারি কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

/এমএএ/

লাইভ

টপ