মাস্ক না পরেই সড়কে বের হচ্ছে মানুষ!

Send
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৩:৩১, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৫, আগস্ট ১১, ২০২০

চট্টগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরা উচিত এটি জানেন, কিন্তু এরপরও মাস্ক না পরেই দায়িত্ব পালন করছেন বাহাদুর। মাস্ক ছাড়াই তাকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

রাঙামাটি জেলার বাসিন্দা বাহাদুর পেশায় নিরাপত্তা প্রহরী। কাজ করছেন এলিট ফোর্সে।

কেন মাস্ক পরেন নাই জানতে চাইলে বাহাদুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব সময় মাস্ক পরার চেষ্টা করি। কিন্তু মাস্ক পড়লে অস্বস্তিতে ভুগি। তাই মাঝে মাঝে মাস্ক খুলে রাখি।’ তবে সবার মাস্ক পরা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিকশাচালকদের মুখে মাস্ক দেখা যায় কম। যাদের আছে তারা পরে থাকেন থুতনিতে।

কেবল বাহাদুর নন, তার মতো অসংখ্য মানুষ চট্টগ্রাম শহরে মাস্ক না পরেই রাস্তায় বের হচ্ছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত নগরীর একাধিক মোড়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। তরুণ বয়সী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের লোকজনও মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে মাস্ক পরলেও নাক-মুখ না ঢেকে থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছেন।

ওয়াসার মোড় এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিন্টু মন্তব্য করেন, করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় মানুষের মনে আগের মতো ভয় নেই। তাই তারা মাস্ক পরছেন না বলে মনে হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে এখন আগের মতো ভয় নেই। তাই এখন মানুষ মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় বের হচ্ছে। দিন দিন মাস্ক না পরা লোকের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে যারা যুবক তারা তো মাস্ক পরেই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুবকদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষও মাস্ক পরা নিয়ে উদাসীন। তারা মাস্ক ছাড়াই রাস্তায় বের হচ্ছেন।’

পথচারীদের মধ্যেও মাস্ক ছাড়া বের হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

তখন বেলা সাড়ে ৩টা, নগরীর ওয়াসার মোড় গিয়ে দেখা যায়, মধ্য বয়সী তিন ব্যক্তি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বুথের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। তাদের একজন মাস্ক পরেন নাই। অন্য দুইজন মাস্ক পরলেও তারা মাস্ক থুতনিতে এনে রেখেছেন। তার পাশেই আরও ৪/৫ জন যুবক আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের কারও মুখেই মাস্ক নেই। এরপর সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, যারা ওই মোড় হয়ে আসা যাওয়া করছেন তাদের এক তৃতীয়াংশের মুখেই মাস্ক নেই। মোড়ে অবস্থান করা রিকশাচালকদের অনেকের মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। সিএনজি চালকদেরও একই অবস্থা।

যাত্রীর অপেক্ষায় রিকশার ওপর বসে ছিলেন রিকশাচালক নেত্রকোনার বাসিন্দা এমদাদ। কেন মাস্ক পরেন নাই জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস্ক পরে রিকশা চালানো অনেক কঠিন। তাই তিনি মাস্ক পরেননি। মাস্ক পরে রিকশা চালালে প্রচুর ঘাম বের হয়, এমনকি ঘাম নাক বেয়ে মুখের ভেতরেও ঢুকে যায়।’

কাজির দেউরি মোড়ে গিয়েও দেখা গেছে একই অবস্থা। বিকেল ৪টায় ওই মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, অনেকের মুখে মাস্ক নেই। বিশেষ করে যারা ফুটপাতে ফল, শাক-সবজি বিক্রি করছেন তাদের কারও মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়া অনেকের মুখেও মাস্ক দেখা যায়নি।

করোনা যে মহামারি সেটা ভুলেই গেছে লোকজন

ফুটপাতে কলা বিক্রি করছেন আব্দুর রশিদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরলে অস্বস্তি লাগে, তাই মাস্ক পরিনি। আমরাতো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুটপাতে থাকি, সারাদিন মাস্ক পরে থাকবো কিভাবে বলেন? মাস্ক পরলে তো নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’

কাজির দেউরি সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাদমান সাফি। তার মুখেও মাস্ক নেই। মাস্ক কেন পরেননি জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরি। সাথে মাস্ক আছে। এমনিতে পরিনি।’ এই কথা বলতে বলতেই পকেট থেকে মাস্ক বের করে মুখে পরেন সাদমান।

বিকেল ৫টায় লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র। সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে দেখা যায়, সড়কে চলাচলকারী অনেকের মুখে মাস্ক নেই। রিকশাচালক, সিএনজিচালক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষরা মাস্ক ছাড়াই সড়কে চলাফেরা করছেন। তাদের পাশাপাশি যুবক বয়সী ছেলেদেরও মাস্ক ছাড়াই সড়কে চলাচল করতে দেখা গেছে। লালখান বাজার মোড়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে ১০০ মানুষের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনকে মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০জনই যুবক ছিলেন। 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ