যশোরে তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় কেন্দ্রের কর্মকর্তা দায়ী হতে পারেন, ইঙ্গিত ডিআইজি’র

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৫৩, আগস্ট ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৯, আগস্ট ১৪, ২০২০

যশোরে শিশু সংশোধন কেন্দ্রে তিন কিশোর নিহতের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম।

যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় তিন কিশোর নিহত ও অন্তত ১৪ জন আহতের ঘটনাটি তদন্ত হবে এবং যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই ফৌজদারি মামলা হবে। নিহতদের স্বজনরা মামলা না করলে পুলিশই বাদী হয়ে এ মামলা করবে।

রাত দুইটায় ঘটনাস্থল শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পর তাদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় মৃত্যু পথযাত্রীরা মিথ্যা কথা বলে না এই আপ্তবাক্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন মুমূর্ষু কিশোররা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তা তদন্ত করা হবে। এসব কিশোর মারা যাওয়ার ঘটনায় ওই কেন্দ্রটির সহকারী তত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ জড়িত আছেন এমন অভিযোগ করেছেন মারধরে শিকার অন্য কিশোররা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল অবধি বন্দি কিশোরদের ‍দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুমসহ আনসার সদস্যরা তাদের ঝুলিয়ে পিটিয়েছেন। এরপরই তিন কিশোর মারা গেছে এমন অভিযোগ ওঠে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে গুরুতর আহতাবস্থায় তিন কিশোরকে হাসপাতালে আনা হলে আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান।

এ ঘটনা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। খবর শুনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম।

ডিআইজি ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকারি একটি সংস্থায় এ ঘটনা ঘটেছে। যে কারণেই হোক আমরা এটা বিলম্বে জানতে পেরেছি। আমরা ৬ ঘণ্টা পর জানতে পেরেছি ঘটনাটা। যার ফলে মূল ঘটনাটা জানা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ বিষয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী সকালের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়াও স্পর্শকাতর এবং সরকারি সংস্থার ভেতরে ঘটনাটি ঘটায় উচ্চ পযায় থেকে আরও কমিটি হতে পারে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হবে। আমরা চাইবো ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের কেউ অর্থাৎ নিহতের স্বজনদের কেউ মামলাটি করবে। না করলে পুলিশই মামলাটি করবে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কিশোররা অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহসহ আনসার সদস্যরা তাদের ঝুলিয়ে পিটিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মৃত্যু পথযাত্রীরা সাধারণত মিথ্যে কথা বলেন না। এ ঘটনায় যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারা যে অভিযোগ দিয়েছে তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।

ওই ঘটনায় নিহতরা হলো- খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) এবং একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তালিপপুর পূর্বপাড়ার নানু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭)। আহতরা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন:


নিজেদের সংঘর্ষের পর কিশোররা মার খায় কেন্দ্র কর্মকর্তার হাতেও!

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ৩ কিশোর নিহত

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ