যশোরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর নিহতসংঘর্ষের পর বন্দিরা মার খায় কেন্দ্র কর্মকর্তা ও আনসারদের হাতেও!

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:৫৪, আগস্ট ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮, আগস্ট ১৪, ২০২০

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ৩ 
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘সংঘর্ষের’ ঘটনায় তিনজন কিশোর নিহত এবং কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কিশোররা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুমসহ আনসার সদস্যরা তাদের ঝুলিয়ে পিটিয়েছেন।

তবে, এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভেতরে এই ঘটনা ঘটার পর হাসপাতালে কিশোরদের নিয়ে যাওয়ার পরপরই বিষয়টি চাউর হয়।

এদিকে, ঘটনার পরপরই রাতে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম।

রাত ১টা পর্যন্ত তারা কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

যশোরের ডিসি মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, তিনজন নিহতসহ ১০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

কেন্দ্রের অফিসারসহ আনসার সদস্যরা কিশোরদের মারধর করেছে এমন অভিযোগের বিষয়ে ডিসি বলেন, আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত ছাড়া কোনও কিছু বলা যাচ্ছে না।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘বন্দি’দের মধ্যে সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহত হয়।

নিহতরা হলো- খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) এবং একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তালিপপুর পূর্বপাড়ার নানু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭)।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মরদেহ তিনটি এখন যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ কর্মকর্তাদের গাড়ি

যশোর ডিএসবির পরিদর্শক (ডিআই-১) এম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের বাসিন্দাদের মধ্যে (বন্দি হিসেবে পরিচিত) পাভেল ও রবিউলের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপ রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দুই গ্রুপ দফায় দফায় সংঘাতে লিপ্ত হয়। এতে উল্লিখিত তিনজন গুরুতর আহত হয়। এর মধ্যে পাভেল গ্রুপের সদস্য রাব্বি ও সুজন আর রবিউল গ্রুপের সদস্য নাঈম।

একটি সূত্র জানায়, তাদের থামিয়ে দেওয়া হলেও তারা সকাল থেকে বিকালের মধ্যে চারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরপরই তাদের মারধর করেন কেন্দ্র কর্মকর্তারা।

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দীর্ঘসময় পর সন্ধ্যা সাতটায় রাব্বি, সুজন ও নাঈমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই এই তিন কিশোর মারা গেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক অমিয় দাস জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা যায়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায়ই অঘটন ঘটে। লাশ উদ্ধার, মারপিটের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম জেঁকে বসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি এই তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অবস্থার যে উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে, আজ তিন লাশ উদ্ধারের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো।

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুলিশের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থানরতদের একটি করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকে। আজ নিহত রাব্বির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১১৮৫৩। আর রাসেল ও নাঈমের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যথাক্রমে ৭৫২৪ ও ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং রাব্বি হত্যা মামলার আসামি ছিল।

রাতে যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। ঘটনা কেন কীভাবে ঘটলো তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’ 

/টিএন/

লাইভ

টপ