খুলনায় ৫৩ হাসপাতালকে রেড সিগন্যাল

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৫৫, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৭, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

চিকিৎসাখুলনা জেলার ৫৩টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে রেড সিগন্যাল দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এগুলোর মালিককে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের কাগজপত্র জমা না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, গত জুলাই মাসে খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে যে সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নবায়ন নেই বা কোনও আবেদন করেনি, তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর কেউ ব্যর্থ হলে স্ব-স্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে চিঠির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই থেকে অনিবন্ধিত হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানে খুলনা জেলায় ১৯ বেসরকারি হাসপাতাল ও ৩৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই বলে জানা যায়। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খুলনা মহানগরীতে ২৩২টি ক্লিনিকের মধ্যে নবায়ন রয়েছে ৭০টি। লাইসেন্স নেই ৩৯টি ক্লিনিকের। লাইসেন্স আছে কিন্তু নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করেনি এমন সংখ্যা রয়েছে ১৪টি। এছাড়া ৪৫টি ক্লিনিক আবদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনার ৯ উপজেলায় লাইসেন্স নবায়নের আবেদন না করা ১৯টি ক্লিনিকের মধ্যে রয়েছে- দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়ীগেটে অবস্থিত মৈত্রি নার্সিং হোম, পেসেন্ট নার্সিং হোম, তেরখাদা উপজেলার মধ্যে ইন্দুরহাটী এলাকার পাতলা কমিউনিটি হাসপাতাল, সাচিয়াদাহে কমিউনিটি হাসপাতাল, কাটেঙ্গা বাজার এলাকায় স্বপ্ন সিঁড়ি প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রূপসা উপজেলার তিলক এলাকায় রেভা. আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল (১০০ শয্যা), জাবুসা চৌরাস্তায় নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিল রোডে জনসেবা ক্লিনিক, চুকনগর বাজার এলাকায় চুকনগর সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরো পয়েন্টে সুন্দরবন ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম, এম আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হাটবাঢী এলাকায় সোনালী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইকগাছা উপজেলার সরল এলাকায় (নতুন) পলক ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাকা বাজার এলাকায় আশালতা ক্লিনিক অ্যান্ড তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম মনোয়ারা হাসাপাতাল, মনোয়ারা ক্লিনিক, কয়রা উপজেলার আমাদী এলাকায় পাইলট সার্জিক্যাল হাসপাতাল, মদিনাবাদ ১ নম্বর কয়রা এলাকায় সাগর নার্সিং হোম ও রায় ক্লিনিক।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনা জেলায় অবস্থিত যেসব ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারও কাগজপত্র জমা না হলে সেই প্রতিষ্ঠান চিঠির মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পর লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নিবন্ধন না থাকার তথ্য প্রমাণ মেলে। আবার লাইসেন্স নবায়ন না করারও তথ্য পাওয়া যায়। এ সব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনের জন্য গত ৮ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত হাই পাওয়ার টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনায় অভিযান শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কাগজপত্র না থাকায় নগরীর খানজাহান আলী রোডের মীম নার্সিং হোম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- নিবন্ধন আবেদন করেনি খুলনার ৮৩ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

/এফএস/

লাইভ

টপ
X