কলাবাগানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাসন্তী রেমা পাচ্ছেন পাকা ঘর!

Send
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৩, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৫, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

বাসন্তী রেমাটাঙ্গাইলের মধুপুরে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নারী বাসন্তী রেমার কলাবাগান ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ১৫ হাজার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫ হাজার করে টাকা বাসন্তী রেমাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধুপুর বনবিভাগের দোখলা বাংলোতে প্রশাসন, বনবিভাগ ও গারো সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে আয়োজিত বৈঠকে বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও আরিফা জহুরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা থেকে বাসন্তী রেমাকে একটি ঘর করে দেওয়ার কথা বলেছি। এছাড়া আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বনবিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের আগে গারোদের জানিয়ে ও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করা হবে।

বাসন্তী রেমাটাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জামিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ করিম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার, মধুপুর সার্কেল অফিসার কামরান হোসেন, মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল, দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু, অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাধারণ সম্পাদক হেরিদ সাংমা, এসিডিএফ সভাপতি অজয় এ মৃ, টিডব্লিউ এ চেয়ারম্যান উইলিয়াম দাজেল, বাগাছাস সভাপতি জন যেত্রা, জিএসএফ সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিলসহ বৈঠকে প্রশাসন, বনবিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও গারো নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাস্থলের বাইরে অবস্থান নেন গারো সম্প্রদায়ের সদস্যরাএ সময় বাংলোর বাইরে মধুপুর বন এলাকার গারো সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের দাবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

শহিদ আলীপ্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের মধুপুরে বনবিভাগের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের পেগামারি গ্রামে বংশপরম্পরায় জমি ভোগকারী বাসন্তী রেমার ৪০ শতাংশ জমির পাঁচশ’ কলাগাছ কেটে ফেলে বনবিভাগ। বাসন্তী রেমার জমির কেটে ফেলা কলাবাগানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। এ ঘটনায় গারো সম্প্রদায়ের লোকজন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিষয়টি নিয়ে দেখা দেয় উত্তেজনা। এদিকে শোলাকুড়ি ফকিরাকুড়ি গ্রামের মৃত আছর আলীর ছেলে ভ্যানচালক শহিদ আলী দাবি করেছেন, বাসন্তী রেমার থেকে তিনি ওই ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে কলাবাগান করেন। সেই জমির কলাগাছ কেটে ফেলে বনবিভাগ।


আরও পড়ুন:
মধুপুরে সংরক্ষিত বনে কলাবাগান উচ্ছেদ: বাগান ও জমি কার?

 

/টিটি/

লাইভ

টপ