কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বিপৎসীমার ওপর ধরলার পানি

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:২১, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২১, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০






বন্যা কবলিত এলাকা কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। চতুর্থ দফার এ স্বল্প মেয়াদী বন্যায় ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ওঠার পাশাপাশি আমন ও সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়। তবে বর্তমানে পানি নামতে শুরু করায় সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এখনও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে এখনও বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাশাপাশি তীব্র নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক পরিবারসহ আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
এক সপ্তাহ আগে উজানের ঢলে ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এর অববাহিকায় চতুর্থ দফা বন্যা পরিস্থিতি হয়। সেই পানি কমতে না কমতেই আবারও বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ধরলা। ফলে সদর উপজেলার হলোখানা ও ভোগডাঙা পাঁচগাছী ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবার বিড়ম্বনায় পড়ে। বন্যার পানির সঙ্গে সমান তালে নদী ভাঙন বাড়তে থাকায় ভিটেহারা হয় শতাধিক পরিবার। এসব পরিবার বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবের জীবনযাপন করছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে দুর্গতদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনে এখনও কোনও সহায়তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টায় সেতু পেয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
নদ-নদীর পানি কমলেও কুড়িগ্রামে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। জেলার সদর উপজেলায় ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র, নাগেশ্বরীতে দুধকুমার, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরে ব্রহ্মপুত্র এবং উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার ভাঙনে ফসলি জমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা হারাচ্ছেন নদী অববাহিকার বাসিন্দারা।

গত কয়েক সপ্তাহে উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া, বজরা ও থেতরাই ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনে পাকা সড়ক, ফসলি জমি ও মসজিদসহ ভিটেমাটি হারিয়েছেন শতাধিক পরিবার। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবারসহ সড়ক ও ফসলি জমি। এ উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বাস্তুহারা হচ্ছেন শত শত পরিবার। এছাড়াও চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের সর্বগ্রাসী আচরণে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এর তীরবর্তী বাসিন্দারা।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে শতাধিক পরিবার বাস্তুহারা হলেও ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসনে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার। তিনি বলেন, পূর্বে চারবার তালিকা পাঠালেও শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম দফায় ভাঙনে ভিটেহারা ৩৫ পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুই একদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। অন্যান্য নদ-নদী অববাহিকায়ও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নদী ভাঙনে ভিটেহারাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্র ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে। তবে দুর্গতদের খাদ্য সহায়তা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি এদিন বিকালে জেলার সদর উপজেলার মোঘলবাসা ইউনিয়নে ধরলার বামতীরসহ উলিপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে নদী খননসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

 

/আরআইজে/

লাইভ

টপ
X