অতিবর্ষণে পানিবন্দি সৈয়দপুরবাসী

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:১৭, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২২, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

সৈয়দপুরে পানি জমেছে বাসা বাড়ি ও লোকালয়ে। ডুবে আছে নলকূপের গোড়া।

সাতদিনের অতিবর্ষণে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শহরের মিস্ত্রিপাড়া, নীচুকলোনি, হাতিখানা, মাছুয়া পাড়া, কয়ানিজ পাড়া, বাঁশবাড়ি ও কুন্দল এলাকার বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে। পানিতে থৈ থৈ করছে খাদ্য গুদাম, ১০০ শয্যা হাসপাতাল, বিমানবন্দর সড়ক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, মাতৃ সদন হাসপাতাল, বিসিক শিল্পনগরী, বিএডিসি’র বাফার গুদাম, সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ক্লাসরুমসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা।

হাতিখানা মহল্লার বাসিন্দা বাবুল হোসেন (৪৫) জানান, গত রাতে অতি বর্ষণের ফলে বাসার আঙিনায় পানি ওঠা শুরু করে। এরপর আস্তে আস্তে ঘরের মেঝে পর্যন্ত পানি ঠেকে যায়, বাধ্য হয়ে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েসহ আশ্রয় নেই। সারাদিন শুকনা খাবার খেয়ে দিন পার করেছি। ওই বাসায় আজ রাতের খাবার খেতে পারবো কি না জানি না। অতি বর্ষণের ফলে বাড়িঘরসহ নিম্নাঞ্চলে ফসলের ক্ষেত, মাছের পুকুর তলিয়ে গেছে।

খাতামধুপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাসকান্দর ও খোর্দ বোতলাগাড়ী, কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল, বাকডোকরা এলাকায় এবং কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সাতপাই, হাজারীহাট এলাকায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

এদিকে, নয়াটোলা মহল্লার পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে মোক্তার হোসেন (৪৭) জানান, পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় নিয়েছি। অনেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে বাড়ির আঙিনা ও ঘরের পানি সেঁচে বের করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ড্রেনগুলো ভরাট হওয়ায় পানি নিঃসরিত হচ্ছে ধীর গতিতে। শহরের রেলওয়ের ডোবাগুলো ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ ও অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র বাসাবাড়ি নির্মাণ করার কারণে পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন পৌরবাসী।

সৈয়দপুরে রাস্তাসহ বাড়ি ঘরে ঢুকে গেছে পানি।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যা এ বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত । গত সাতদিন থেকে দিনরাত প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চলগুলো অনেক আগেই জলমগ্ন হয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বেশির ভাগ ধানী জমিতে পানি জমে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছা. শাহিনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে অতিবর্ষণে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে। আশাকরি, পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং এতে ধানের তেমন কোনও ক্ষতি হবে না। আমরা জরিপ করছি। কাজ শেষে জানা যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, সৈয়দপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খড়খড়িয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা এ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সৈয়দপুর শহর রক্ষাবাঁধ। বাঁধ রক্ষার্থে ইতোমধ্যে দুর্বল স্থানে ১০০ জিও ব্যাগ বসানো হয়েছে।

সৈয়দপুরে গরু-বাছর রাখা যাবে এমন শুকনো জায়গা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকায় চিকিৎসারত পৌরমেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার মুঠোফোনে জানান, এ শহরের ৮০ ভাগ বসতবাড়ি রেলওয়ের। রেলের জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে সৈয়দপুরসহ কিশোরগঞ্জ অঞ্চল। পানিবন্দি মানুষের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। প্লাবিত এলাকার দুর্ভোগে পড়া মানুষের জন্য ঘরে ঘরে রান্না করা খিচুড়ি ও শুকনা খাবার বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বৃষ্টিপাতজনিত পানিবদ্ধতা সারাদেশেই দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীসহ বড় বড় শহরগুলোও পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সৈয়দপুরের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়। আশাকরি দু’একদিনের মধ্যেই পানিবদ্ধতার অবসান হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে পৌরসভার পক্ষ থেকে।

সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভেতরেও জমে গেছে পানি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ জানান, উপজেলায় কত মানুষ অতিবৃষ্টির কারণে পানিবদ্ধতায় পড়েছে তা এখনও নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা খোঁজখবর রাখছি এবং তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তালিকা শেষ হলেই সঠিক তথ্য জানানো হবে।                                                 

/টিএন/

লাইভ

টপ