শেরপুরে বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডের টাকা নিয়ে ‘নয়-ছয়’!

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:২৫, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩১, অক্টোবর ১৮, ২০২০

শেরপুর উপজেলার ভায়েরা পালাশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফরের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) ফান্ডের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় না করে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট ও আয়করের নামে বিদ্যালয় প্রতি বরাদ্দের টাকা থেকে অতিরিক্ত হারে কর্তন, প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না করা, সহকারী শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে কাজ করাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। তারা তদন্ত সাপেক্ষে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ২০১৯-২০ অর্থ বছরে শেরপুর উপজেলার ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্লিপ ফান্ডে মোট ৭৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে ২০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ১০৭ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা করে, ৫০০ পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা ২৯ বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার টাকা করে এবং ৫০০ এর উপরে শিক্ষার্থী থাকায় একটি বিদ্যালয়কে ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করে সচেতনতামূলক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা।

কিন্তু করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শেরপুরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েই স্লিপ গাইডলাইন অনুসরণ করে সঠিক সময়ে কাজ হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের এসব আনুষাঙ্গিক খরচ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ও দুই শতাংশ আয়কর (আইটি) কর্তন করার কথা। কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যাট আইটির কথা বলে ১৮ শতাংশ টাকা কর্তন করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলো প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে সাড়ে আট শতাংশ টাকা বঞ্চিত হয়েছে।

এতে সাধারণ শিক্ষকরা ক্ষুদ্ধ হলেও হয়রানির ভয়ে প্রতিবাদের সাহস করছেন না। এছাড়াও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্লিপ ওরিয়েন্টশন সভা, মা সমাবেশসহ প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। তারপরও কাগজে কলমে কাজ দেখিয়ে স্লিপের টাকা উত্তোলন ও ব্যয় দেখানো হয়েছে। এমএসসি, পিটিএ কমিটির সমন্বয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করার বিধান থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে তা করা হয়নি। কাগজে কাজ দেখিয়ে টাকাগুলো লোপাট করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, বাধ্যতামূলকভাবে স্লিপ ফান্ডের টাকা থেকে বিদ্যালয়গুলোতে পথ নিদের্শক বাবদ দুই হাজার টাকা ও বই রাখার আলমিরা বাবদ সাত হাজার টাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খানপুর নলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমির হোসেন জানান, ভ্যাট বাদে গত বছর স্লিপের ৪৫ হাজার টাকা পেলেও এবার পেয়েছেন ৪১ হাজার টাকা। অফিস থেকে ১৮ শতাংশ ভ্যাট আয়কর কেটে নেওয়া হয়েছে।

নতুন জাতীয়করণকৃত দশশিকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুস সামাদ জানান, টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। এখনও কাজ শুরু করিনি। তবে এবার বেশি টাকা কেটে নিয়েছে।

গাড়ীদহ ইউনিয়নের কালসিমাটি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. রকি জানান, স্লিপের যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তার মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কিছু জিনিস দিয়েছে। এজন্য টাকা দিতে হয়েছে।

উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বিশ্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম জানান, এ বছর অতিরিক্ত হারে ভ্যাট আইটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জুম মিটিংয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশালপুর ইউনিয়নের জামাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম লুৎফর রহমান জানান, স্লিপের টাকা দিয়ে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের পথ নিদর্শক এখনও পাওয়া যায়নি। এগুলো শিক্ষা অফিস থেকে একযোগে সব বিদ্যালয়ে দেবে।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন জানান, এ বছর অতিরিক্ত হারে ভ্যাট আইটি কেটে নেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টির প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু অফিস থেকে বলা হয়েছে ভুলক্রমে অতিরিক্ত হারে কর্তন করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি আব্দুল লতিফ জানান, ভুলক্রমে অতিরিক্তহারে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। আগামীতে তা সমন্বয় হতে পারে।

শেরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনা পারভীন জানান, বিধি মোতাবেক স্লিপ ফান্ডের ভ্যাট ও আইটি কাটা হয়েছে। সকল বিদ্যালয়ে শতভাগ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোনও অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। 

/আরআইজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ