গৌরীপুর পৌরনির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন শুভ্র

Send
আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত : ১৯:১৫, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৭, অক্টোবর ১৮, ২০২০

মাসুদুর রহমান শুভ্র

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান শুভ্র (৩৪) আসন্ন গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাসুদুর রহমান শুভ্র’র জনপ্রিয়তা এবং পৌর মেয়র প্রার্থিতা ঘোষণাই তার মৃত্যুর কারণ-এমন দাবি করেছেন তার চাচাতো ভাই গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাসুদুর রহমান শুভ্র দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পৌর এলাকায় ব্যানার, পোস্টার টাঙ্গানোসহ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণায় নেমেছিল। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়টি পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম কিছুতেই মানতে পারেননি। বিশেষ করে মেয়র মনোনয়নে বাধা হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে শুভ্রকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদকে ব্যবহার করা হয়েছে। মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই উপজেলা যুবদলের সভাপতি তৌহিদুল ইসলামের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্ববায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে কাজে লাগানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে মাসুদুর রহমান শুভ্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের অনুসারীরা হামলা করে মারধর করেছিল।

তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে মাসুদুর রহমান শুভ্রর হত্যার বিচার দাবিতে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পৌরমেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশ তৎপর থাকায় নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা করতে পারেননি। তবে উপজেলাজুড়ে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে পৌরমেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত মাসুদুর রহমান শুভ্র’র সঙ্গে তার কোনও রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল না। পৌর নির্বাচনে শুভ্র ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল। তিনি আরও জানান, তৃতীয় পক্ষ দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তদন্তপূর্বক পুলিশ মূল রহস্য উন্মোচন করবে। তবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পৌর আওয়ামী লীগের অফিসে হামলার চেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, গৌরীপুরে আওয়ামী লীগ এখন কয়েক ধারা উপধারায় বিভক্ত। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরমেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান একেকটি ধারার নেতৃত্বে আছেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান শুভ্র ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খানের অনুসারী। গৌরীপুরে আওয়ামী লীগে দলীয় শৃঙ্খলা নেই বলেই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এ বিষয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

তবে ময়মনসিংহ- গৌরীপুর আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ জানান, গৌরীপুরে দলীয় বিভক্তি থাকলেও কোন্দল তেমন একটা নেই। শুভ্র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমেই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বের হবে বলে জানান তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে জানান ওসি।   

উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৌরীপুর মধ্যবাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের  সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির  চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভকে কুপিয়ে আহত করে। পরে রাতেই হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৪

গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ
X