রংপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সতর্ক প্রশাসন

Send
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশিত : ১৯:৩১, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩১, অক্টোবর ১৮, ২০২০

আচরণবিধি না মেনে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সাটিয়েছেন প্রার্থীরা



আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রংপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। কোনও প্রার্থীই আচরণ বিধি মানছেন না। কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্বাচনে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকায় বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ হলো-হরিদেবপুর, চন্দনপাট ও সদ্যপুষ্করিনী। তিন ইউনিয়নে মোট ১৬ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে হরিদেবপুরে পাঁচ জন, চন্দনপাটে ছয় জন ও সদ্যপুস্করিনীতে পাঁচ জন। হরিদেবপুর ইউনিয়নের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির  মফিজল ইসলাম জর্দা, আওয়ামী লীগের একরামুল হক, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আবুল হোসেন এবং স্বতন্ত্র পার্থী শাহিনুর আলম ও ইকবাল হোসেন।

চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের ছয় প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন লিটন, আওয়ামী লীগের আমিনুর রহমান, বিএনপির মেরাজুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র দিলকাদুর রহমান,  লিটন চৌধুরী ও সহিদুর রহমান।

সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের পাঁচ জন প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির ফজলুল হক, আওয়ামী লীগের মকছেদুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সোহেল রানা, মাহাবুল হক ও কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তিনটি ইউনিয়নে নিজেদের চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলেও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে একটি করে ইউনিয়নে। এদিকে একটি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী দিলেও সে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বাকি দুইটি ইউনিয়নে বিএনপির কোনও প্রার্থী নেই।

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কেউই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তাদের। দুপুরের পর থেকে মাইকিং করার কথা বলা হলেও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে কালো টাকা ছড়ানো প্রার্থীদের সমর্থকদের হুমকিধমকি, মটরসাইকেল মহড়াসহ তিনটি ইউনিয়নে চলছে চরম উত্তেজনা। ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা খোদ নির্বাচন কমিশনের।

সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোকছেদুর রহমান দুলু ও স্বতন্ত্র পার্থী সোহেল রানাসদ্যপস্করনী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্ধী মোকসেদুর রহমান দুলুর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র মাসুদ রানার বিরুদ্ধে, তিনি কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার প্রতি টাকা বিলি করছেন।

তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে উল্টো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘন তার সমর্থকদের নানাভাবে হুমকিধমকি প্রদান, মটরসাইকেল মহড়া প্রদর্শন, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববিকে নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ চন্দনপাট ও হরিদেবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও।
তবে তিনটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজ দলের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারে বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত।

এর আগেও সদ্য পুস্করনী ইউনিয়ন পরিষদসহ তিনটি ইউনিয়নে নির্বাচনের দিন ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটার কারণে এবারও নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের সহিংসতার আশংকা করেছেন খোদ রিটার্নিং অফিসার।
সার্বিক বিষয় জানতে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু করতে বিজিবি, র‌্যাব আমর্ড পুলিশসহ ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। আচরণবিধি দেখভালের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

/আরআইজে/

লাইভ

টপ
X