বিদ্যুৎলাইন সংস্কারের সময় চালুর অভিযোগবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৪

Send
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:৫০, অক্টোবর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫২, অক্টোবর ১৯, ২০২০

শরীয়তপুর

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন সংস্কারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও ৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হচ্ছেন টাঙ্গাইল জেলার নাটেরপুল গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে সোহেল (২৩) এবং গাইবান্ধা জেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের আরিফ (২২)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া-গাগ্রীজোড়া এলাকায় রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পল্লী বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলছিল। ঠিকাদারের চুক্তিভিত্তিক ২৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ রাখার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দুপুর দেড়টার দিকে সঞ্চালন লাইন চালু করে দেওয়া হলে ৬ জন শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ৩ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল ও আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের মধ্যে দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং দুই জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের ২৩ জন শ্রমিক গাগ্রীজোড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সংস্কারের কাজ করছিল। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন বন্ধ রাখার কথা ছিল। কিন্তু বেলা দেড়টার দিকে হঠাৎ করেই আমাদের না জানিয়ে তারা সঞ্চালন লাইন চালু করে দেয়। এতে আমাদের দুই জন শ্রমিক মারা গেছেন। আরও দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল থেকে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসার পর আইনগত ভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে কাজ চলাকালীন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু করার কথা অস্বীকার করেন শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুতের জেলারেল ম্যানেজার (জিএম) জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। এই শ্রমিকরা কিভাবে মারা গেছে তা আমার জানা নেই।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ