চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩৬টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা

Send
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৫৪, অক্টোবর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৪, অক্টোবর ২০, ২০২০

জেলা শহরের ঝংকার সংঘের এবারেরে দুর্গা ঠাকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প আয়োজনে এ বছর শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন করা হবে। জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৩৬টি মণ্ডপে তীথি অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবর দেবীর আমন্ত্রণ ও আসনে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গা পূজা। এ বছর দেবীর আগমন হবে দোলায় এবং গমন করবেন গজে।

এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, এখন চলছে প্রতিমায় রং-তুলির আঁচড়। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। স্বল্প পরিসরে ও আয়োজনে দুর্গা পূজা হলেও, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পূজা কমিটির নেতারা। 

তবে এবার পূজায় থাকছে না কোনও আড়ম্বরতা। মন্দিরগুলো ঘিরে থাকছে না ব্যাপক আলোকসজ্জা, ব্যান্ড পার্টি এবং উচ্চ শব্দে মাইকের ব্যবহারও। থাকছে না অন্য বছরের মতো ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। শুধু মন্দিরের ভেতরে প্রতিমা দেখার জন্য থাকবে লাইটিং ব্যবস্থা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একেএম তাজকির-উজ-জামান জানান, প্রতিটি পুজামণ্ডপে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান জানান, নিরাপদ ও নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে এবার মন্দির ভিত্তিক পুলিশ নিয়োজিত থাকবে না। তবে মন্দিরগুলোতে ক্লাস্টার ভিত্তিক পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে।

রং-তুলির আঁচড়ের অপেক্ষায় সার্বজনীন পূজা কমিটির দুর্গা মন্দিরের দুর্গাদেবী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার কোনও মণ্ডপে স্থায়ী ভিত্তিতে আনসার বা পুলিশ মোতায়েন থাকবে না। তাই নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক কমিটি যাতে নিরাপত্তায় কাজ করতে পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মণ্ডপ কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকার ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোনও আড়ম্বরপূর্ণ লাইটিং বা বড় পরিসরে তোরণ না করে জনসমাগম এড়িয়ে পূজা উদযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫২টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও এবার করোনার কারণে এখন পর্যন্ত ১৩৬টি মণ্ডপ শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপনে প্রস্তুত হচ্ছে। পূজা উদযাপনে ইতোমধ্যে সরকারি চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং প্রতিটি মণ্ডপেই তা বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। প্রতিমা তৈরি হয়ে গেলেও, এখন ব্যস্ততা রং তুলির আঁচড়ে। রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেব-দেবীর অবয়ব।

প্রতিমা কারিগর আশিষ কুমার সিনহা জানান, এবার ছোট প্রতিমা বানিয়েছি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়, মাঝারি প্রতিমা ১৮ থেকে ২০ হাজার এবং বড় আকারের প্রতিমা ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে।

বারঘরিয়া এলাকার প্রতিমা কারিগর অসিত পাল জানান, এ বছর বিভিন্ন মণ্ডপে ১২টি প্রতিমা তৈরি করেছি। প্রতিমা তৈরিই আমাদের কাজ। প্রতি বছর প্রতিমা তৈরি করেই পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে হয়। তবে এ বছর খরচ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরি করে খুব একটা লাভবান হতে পারিনি। করোনার কারণে এবার কাজের অর্ডারও অনেক কম ছিল।  

/আরআইজে/

লাইভ

টপ