পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার মঠ অধ্যক্ষ জজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারী হত্যাকাণ্ডের গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য আলমগীর হোসেন (৩০) ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতের হাকিম মার্জিয়া খাতুনের আদালতে আলমগীর ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে অধ্যক্ষকে হত্যার ঘটনায় বৃস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আলমগীর হোসেনসহ তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ একই আদালত তাদের হাজির করে এবং রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত প্রত্যেকের ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি বাবুল আক্তার জানান, অধ্যক্ষ হত্যার ঘটনায় বর্তমানে গ্রেফতারকৃত ছয় জেএমবি সদস্য রিমান্ডে আছেন। এদের মধ্যে ঘটনার দিন গ্রেফতারকৃত তিন জেএমবি সদস্য ১৫ দিনের এবং আলমগীরসহ গ্রেফতারকৃত তিনজনকে শনিবার ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ডে নেওয়ার চার দিনের মাথায় আলমগীর পুরোহিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করলেন। পরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে দেবীগঞ্জ থানায় নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে দেবীগঞ্জের সন্ত গৌড়ীয় মঠের পুরোহিত জজ্ঞেশ্বর দাসাধিকারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে সেবায়েত গোপাল চন্দ্র দাসাধিকারী গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ওই দিনই দেবীগঞ্জ নিহত যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায় এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উপ পরিদর্শক মজিবর রহমান বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। দুটি মামলাতেই অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, জজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জেমএমবির পাঁচ সদস্য অংশ নেয়। এদের মধ্যে সরাসরি অংশ নেওয়া তিন জনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জামায়াতুল মুজাহেদিনের (জেএমবি) সদস্য।
/এফএস/








