দাবি করা চাঁদা না পেয়ে বজলুর রহমান (৩০) নামের এক যুবককে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া থানার এক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এএসআইর’ নাম রাশেদুল ইসলাম। ওই যুবককে মাদক বিক্রি ও বহন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবার এ অভিযোগ করেন।
আটককৃত বজলুর পশ্চিম বাইপাইল এলাকার মো.ফজল হকের ছেলে।তিনি বগাবাড়ি এলাকার ভাই ভাই ক্যাবল অপারেটর নামের একটি ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
বজলুর পরিবার অভিযোগ করে বলেন,গত ১৩ এপ্রিল সকালে আশুলিয়ার পশ্চিম বাইপাইল এলাকার নিজ বাড়ি সংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন বজলুর। এসময় এএসআই রাশেদুল ইসলাম সিভিল পোশাকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে তার পরিবারের কাছে বজলুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। সঙ্গে সঙ্গে ২৮ হাজার টাকা জোগাড় করে এএসআই রাশেদুলের কাছে যান তারা। কিন্তু টাকার পরিমাণ কম দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরে দুইদিন আটকে রাখার পর গত ১৫ এপ্রিল বজলুরের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও বহনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন:
এবার ঠোঁটে আঙুল রেখে সাক্ষীদের ‘চুপ’ থাকার হুমকি নূর হোসেনের
এদিকে মামলার এজাহারে এএসআই অভিযুক্ত বজলুরকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইলের সম্ভার সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে আটকের কথা উল্লেখ করলেও তার বাস্তবিক প্রমাণ মেলেনি।
প্রতক্ষদর্শী মো. ফজল জানান, সেই দিন বজলু ও রুবেলকে চায়ের দোকানে সাদা পোশাকধারী পুলিশের এএসআই ও তার ফোর্স তল্লাশি চালিয়েও কোনও মাদক পায়নি। অথচ দুই দিন পর টাকা না পেয়ে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আটক বজলুরের প্রতিবেশীরা জানায়,বজলুর দীর্ঘদিন বগাবাড়ি এলাকার ভাই ভাই ক্যাবল প্রতিষ্ঠানের অপারেটরের কাজ করে আসছে। তাকে মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশ টাকা না পেয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
এদিকে ঘটনার সত্যতা জানতে গেলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এএসআই রাশেদুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আটককৃত যুবকের কাছে ৩০ পিছ ইয়াবা পাওয়া গেছে। এ কারণেই তাকে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে একটি মমালা দায়ের করে আদালতে পাঠনো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিনুল কাদির জানান, এর আগেও এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এসেছে। আমি ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি।
আরও পড়ুন:
/এআর/টিএন/








