মাস খানেক আগে ঝড়ের রাতে নারায়ণগঞ্জে তামাকপট্টি এলাকায় ষাটোর্ধ্ব এক নারীকে রাস্তায় কুড়িয়ে পান রকি, পারভেজ, নাদিম ও নয়ন নামের চার তরুণ। আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় এক মাস ফিরোজা বেগম নামে একজন নারীর কাছে রেখে তার সেবা-যত্ন শুরু করেন ওই চারজন। গত ১৫ এপ্রিল ওই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কাছের স্বজনরা এখনও পর্যন্ত তার খোঁজ না নিলেও তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ‘অচেনা স্বজনরা’। সাধ্যমতো বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তার সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন।
প্রথমে ওই বৃদ্ধা নিজের পরিচয় বলতে পারছিলেন না। পরে একটু সুস্থ হওয়ার পর তিনি জানান, তার নাম নূর জাহান বেগম। বাড়ি জামালপুর জেলার দেগুল কান্দী। স্বামীর নাম সানু সরকার। এছাড়া আর কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর নূর জাহানের সাহায্যে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়তে পারেন: একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন গাইবান্ধার আরজিনা
সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই বৃদ্ধাকে। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন ওই নারীকে দেখতে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম। এসময় তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধা মায়ের দেওয়া ঠিকানায় যদি তার স্বজনদের না পাওয়া যায় তাহলে নারায়ণগঞ্জই হবে মায়ের বাসস্থান।’ তিনি ওই বৃদ্ধার জন্য শাড়ি, প্রসাধনী, কম্বলসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে গিয়েছিলেন।
এছাড়াও তার সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, খন্দকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিরিন বেগম, নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সহ-সভানেত্রী আঞ্জুমান আরা আকসির, রিনা আহমেদ, হাসপাতালের সেবিকা পারভীন বানু প্রমুখ।
আরও পড়তে পারেন: রাস্তার ধুলো নিয়ে সমালোচনায় খালেদা জিয়া ও বিএনপিনেতারা
নূর জাহানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, ‘ঝড়ের রাতে হয়তো ব্যথা পেয়ে রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। কিংবা তাকে ফেলে দিয়ে যাওয়ার সময় হয় তো ব্যথা পান। এতে তার ডান হাত নাড়াচাড়া করতে পারছে না। এমনিতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তেমন কোনও সমস্যা পাওয়া গেছে।’
শুধু ‘বৃদ্ধা মায়ের’ সেবা করতে পালা করে দায়িত্ব পালন করছেন গার্মেন্ট চাকরিজীবী রকি হোসেন, সুপার স্টার বাল্ব কোম্পানির কর্মকর্তা মো. পারভেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র নাদিম হয়দার ও নয়ন দাস।
পারভেজ বলেন, ‘নাদিমই প্রথম বৃদ্ধা মাকে দেখে আমাদের সবাইকে খবর দেন। এরপর থেকে আমরা গত এক মাস ধরে তার সেবা-যত্ম করছি।’
/এসটি/







