সিলেটে শুল্ক অফিসের সামনে পরিত্যক্ত লেক্সাস কার!

সিলেট প্রতিনিধি
২০ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:২৯আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৪৯

মার্সিডিজ উদ্ধারের দশ দিনের মাথায় এবার সিলেটে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জব্দ করেছে একটি বিলাসবহুল লেক্সাস গাড়ি। শুল্ক কর্মকর্তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ঝামেলা এড়াতে দেড় কোটি টাকা দামের গাড়িটিকে অধিদফতরের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে গেছেন এর মালিক। গাড়ির ভেতরে এর মালিকের রাখা চিঠি থেকে পাওয়া গেছে এ সংক্রান্ত সব তথ্য। বিলাসবহুল এই লেক্সাসটি ২০১১ সালে কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধার আওতায় এক বছরের জন্য আমদানি করা হয়েছিল। তবে আর শুল্ক পরিশোধ করা হয়নি গাড়িটির।

সিলেটে শুল্ক অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে যাওয়া লেক্সাস কার

সিলেট শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে গাড়িটি নগরীর বড়বাজারে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অফিসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়ির সিটের ওপরে এর মালিকের লেখা একটি পত্রও পাওয়া গেছে।

লেক্সাস গাড়িটির ভেতরে পাওয়া পত্রটি শুল্ক গোয়েন্দা  ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে লেখা। ওই পত্র থেকে জানা গেছে, এর মালিক জনৈক লন্ডন প্রবাসী। প্রাথমিকভাবে নিজের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি। ২০১১ সালে কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধার আওতায় এক বছরের জন্য বিলাসবহুল গাড়িটি আমদানি করে সিলেটে নিয়ে আসেন তিনি। তবে চেষ্টা করেও পরবর্তীতে আর এ সুবিধা বাড়িয়ে নিতে পারেননি তিনি। এমনকি শুল্ক ট্যাক্স পরিশোধের সক্ষমতাও না থাকায় তিনি তা পরিশোধ করেননি এবং গাড়িটিও আর ব্যবহার করেননি তিনি।বর্তমানে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

আরও পড়তে পারেন:

ফেসবুকে এইচএসসি’র জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস!

তিনি গাড়ি ক্রয়ের মালিকানা দ্রুত সংশ্লিষ্টদের কাছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন ওই চিঠিতে এবং তাকে কোনও রকম হয়রানি না করার অনুরোধ জানান। ওই প্রবাসী বলেন, বাহক মারফত গাড়িটি আপনার বরাবরে পাঠালাম। গাড়িটি দেশে রাখা কিংবা পুনরায় বিদেশে নিয়ে যেতে হলে শুল্ক করের পরিমাণ কতো হবে চিঠিতে সেটাও জানার আগ্রহও প্রকাশ করেন ওই প্রবাসী।

প্রভাত কুমার সিংহ জানান, প্রবাসীর এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান। তিনি বলেছেন, গাড়ির মালিক সঠিক দলিলপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে যদি নিজের মালিকানা প্রমাণ করতে পারেন তবে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, জব্ধ করা দেড় কোটি টাকা দামের রূপালী (সিলভার) রঙের লেক্সাস ব্র্যান্ডের কারটি ২০০৭ সালে তৈরি করা।

প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল সিলেট নগরীর আম্বরখানা বিএম টাওয়ার থেকে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মালিকানাধীন একটি ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ’ জব্দ করা হয়।

/বিটি/টিএন/

আরও পড়তে পারেন:

মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন হত্যাকাণ্ডটাকা-পয়সার ভাগ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই মুয়াজ্জিনকে খুন

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী