গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। শনিবার (২৩ এপ্রিল) তৃতীয় ধাপে ওই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি কাজে বাধা, সমর্থকদের মারপিট, মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী খোকন কাশিয়ানী থানার ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন। এ অভিযোগে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামকে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে নির্দেশনা পাঠায় ইসি। পরে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। বৃহস্পতিবার তার স্থলাভিষিক্ত হন নতুন ওসি। ইতোমধ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার তৃতীয় ধাপে এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ১৪ জন, বিএনপি থেকে তিনজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে একজন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রভাবে ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৫১২ জন প্রার্থী লড়ছেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১২৫ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৮৭ জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
এ নির্বাচনে ইতোমধ্যে পারুলিয়া ইউনিয়ন থেকে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে একজন এবং সাধারণ সদস্য পদে হাতিয়ারা ইউনিয়ন থেকে দুজন, মহেশপুর ইউনিয়ন থেকে দুজন, পারুলিয়া ইউনিয়ন থেকে একজন, পুইশুর ইউনিয়ন থেকে একজন, রাজপাট ইউনিয়ন থেকে একজন, সাজাইল ইউনিয়ন থেকে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৯ জন। এর মধ্যে নারী ৭৮ হাজার ৯৯১ জন ও পুরুষ ৭৫ হাজার ৭৫৮ জন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী পাঠানো হয়েছে।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ভোট গ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন:
লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রের মহড়া, বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে গুলি বর্ষণ
/বিটি/এএইচ/







