নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ৬ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে বাঁচাতে গোপনে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে গ্রামপ্রধানদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় শুক্রবার শালিসের মাধ্যমে আসামির কাছ থেকে গোপনে নামমাত্র টাকা নিয়ে জরিমানা করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নারাজি হয়ে মামলা করলে নিপীড়নকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন গ্রামপ্রধানরা।
নির্যাতিত শিশুর বাবা স্বাধীন হালদার জানান, সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে গেলে একই মহল্লার শ্যামা হালদার তার মেয়েকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করে। তারা বাড়িতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আসামি পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে বাহেরসহ গ্রামপ্রধানরা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে শালিসে বসে। সেখানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে গ্রামপ্রধানরা গোপনে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাত্র ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে এর সমাধান করেন। এমনকি সেই টাকাও তাকে দেওয়া হয়নি।
এরপর ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করে গ্রামপ্রধানরা বলেন, ঘটনাটি কাউকে বললে তোমাদেরকে(ভুক্তভোগী) ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। তাই সাজানো বিচার না মেনে মামলা দায়ের করলে সিংড়া থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
কিন্তু মামলা তুলে নিতে গ্রামপ্রধানরা স্থানীয় কাউন্সিলরসহ বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর মিজানুর রহমান গ্রাম্য শালিসের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শালিস শেষে জরিমানার টাকা নিয়ে ভুক্তভোগীর দাদী অসন্তোষ প্রকাশ ও বাক-বিতণ্ডা করায় তা শালিসের সভাপতির কাছে জমা রাখা ছিল। মামলা হওয়ায় জরিমানার টাকা পরে আসামিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শুক্রবার সকালে গ্রামপ্রধানরা তার কাছে আসলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি বাদীকে মীমাংসা করার ব্যাপারে বলেছিলেন তবে কোনও চাপ প্রয়োগ করেননি।
সিংড়া থানার এসআই পবিত্র কুমার জানান, মামলার আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।
তিনি আরও জানান, মামলা তুলে নেওয়ার চাপসহ এ বিষয়ে এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনায় আটক ১
/এআর/এএইচ/








