সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে বৈশাখী বৃষ্টিপাতে যমুনা নদীর পানির স্তর আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পের আওতায় শত কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নদীতীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিবার গভীর রাতের ঝড়ো বাতাসসহ বৃষ্টিতে নদীর পানি সাত থেকে আট ফুট ফুঁসে ওঠায় নদীতীর রক্ষায় চলমান প্রকল্পের বালিভর্তি বস্তা (জিওব্যাগ) নদীগর্ভে চলে যায় ।
সিরাজগঞ্জের সংশ্লিষ্ট অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান ও নদী তীর রক্ষা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) আমিনুল হক সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি জানান, চৌহালীর উত্তর সীমান্ত তেকিরমোড় থেকে দক্ষিণ দিকে খাস কাউলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের জিওব্যাগ নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁধের উত্তরদিকে নাগরপুর এলাকাতেও প্রায় সোয়া কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের জিওব্যাগ নদীগর্ভে চলে গেছে।
উপজেলার এই নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু পাউবোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও দুপুর পর্যন্ত কাউকে দেখতে পাইনি।’
বাঁধে ধসের জন্য পাউবোর পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করা হলেও স্থানীয়রা দাবি করেন নিম্নমানের কাজের কারণেই এ ধসের ঘটনা ঘটেছে।
টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান নিম্নমানের কাজসহ দফতর প্রকৌশলীদের দুর্বল তদারকির কথা অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোর কোনও উপায় পাউবোর জানা নেই। এ বাঁধ কিভাবে সংস্কার বা পুনরুদ্ধার করা যায় সে বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নাগরপুর থেকে চৌহালীর পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ‘রিভেটমেন্ট পদ্ধতিতে’ যমুনা নদীর তলদেশে স্থায়ী ভাঙননিরোধক বাঁধ তৈরির প্রকল্প এটি।
বেড়ে যাওয়া পানিতে ঝড়ো বাতাসের প্রভাবে সৃষ্ট ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধে ধস নামায় যমুনা তীরবর্তী জনপদে আবারও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন:
দুই জেলায় বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু
/এইচকে/আপ-এআর/








