রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকা মহাসমাবেশে আরও অনেকের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি।
নিহত অধ্যাপকের শোকার্ত এই সন্তান বলেন, ‘একটা হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার অর্থ আরেকটি হত্যার উসকানি দেওয়া। তাই দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন। আপনারা যদি এর বিচার করতে না পারেন তাহলে বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর থাকবে না, ৩৬৫ দিনই বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতে হবে।’
এসব কথা বলেছেন। তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এ সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে অধ্যাপক রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, ‘আজ ১১ দিন হয়ে গেলো। কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাই। আমার মতো আর কোনও স্ত্রীকে যেন মৃত্যুর পর শোকসভা করতে না হয়। এভাবে বক্তৃতা দিয়ে বিচার চাইতে না হয়। আপনার বিচার করুন না হয় হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার বিচার দাবিতে ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মহাসমাবেশ পালন করা হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা হত্যা, খুন, গুমের বিচার করতে পারছি না এটা আমাদের ব্যর্থতা। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো আমাদের পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করছে।’
শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আজকে যারা রেজাউলের নামে কুৎসা করছে তারা পুরো বাংলাদেশের নামে কুৎসা করছে। তারা সেই সম্প্রদায়, যারা বর্বর, যারা সংস্কৃতি জানে না, মুক্তবুদ্ধি জানে না, ইতিহাস জানে না, শুধু সবকিছু স্তব্ধ করে দিতে জানে। আমাদের এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
আরও পড়ুন:
ঠাকুরগাঁওয়ে নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিন বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউলকে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে হত্যা করা হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির জায়গা, আর রেজাউল মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতেন।’
সমাবেশে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতায় আছে বলে আমরা মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেব না। আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। রেজাউল হত্যাকারীদের কাঠগড়ায় দেখতে চাই, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চাই না।’
দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তাবিউরর রহমান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোকাদ্দাম হোসেন, রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি নীরেন্দ্র নাথ মোস্তাফী প্রমুখ।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের ব্যানারে মহাসমাবেশে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় অধ্যাপক রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকে বিচার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে ইংরেজী বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
/এনএস/এইচকে/আপ-এআর/








