রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দুই মাস ১৮ দিন কারা ভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় স্ত্রী রেবেকা সুলতানা সিমিসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান।
সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া দুটি মামলার কাগজ পত্র বৃহস্পতিবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো চিঠির কারণে কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পাননি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালত থেকে সদ্য জামিন পাওয়া দুটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় আগামী রবিবার (২৯ মে) রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি রয়েছে।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সর্বশেষ দুটি মামলার জামিনের আদেশ বৃহস্পতিবার বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে। কিন্তু সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় আসা একটি চিঠিতে বলা হয়,
বৃহস্পতিবার মেয়র বুলবুলের জামিনের বিপক্ষে আদালতে আপিল করা হয়েছে। যার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার বেলা ১২টায়। এই কারণে বুলবুলকে সেইদিন মুক্তি দেওয়া যায়নি। সেই শুনানিতে বুলবুল জামিন পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মেয়র বুলবুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রইসুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১১ মাস পলাতক থাকার পর গত ১৩ মার্চ মেয়র বুলবুল ৯ মামলায় জামিনের আবেদন করে রাজশাহীর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজশাহীর আদালত থেকে ৭টি মামলা ও উচ্চ আদালত থেকে দুটি মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন। বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উচ্চ আদালত থেকে মেয়র বুলবুলের জামিনের একটি ফ্যাক্স কেন্দ্রীয় কারাগারে আসে। পরে পৌনে ৪টার দিকে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়।
গত বছরের ৭ মে পলাতক থাকা অবস্থায় তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত ১০ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি এমদাদুল হক ও বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়ার যৌথ বেঞ্চ বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশ অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।
এরপর গত ১৩ মার্চ তিনি রাজশাহীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
আরও পড়ুন: রিমান্ড শেষে মেয়র মান্নান কারাগারে
/জেবি/টিএন/আপ-এনএস/








