মোবাইল চুরির অভিযোগ

সাবেক ইউপি মেম্বার ও ছেলেকে কান ধরে ওঠবোস

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৬ জুন ২০১৬, ২০:৩৬আপডেট : ১৬ জুন ২০১৬, ২০:৫০

মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে রাজশাহীর তানোর উপজেলার একটি গ্রামে সাবেক এক ইউপি মেম্বার ও তার ছেলেকে মারধরের পর কান ধরে ওঠবোস করিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সকালে তানোর উপজেলার পারিশো-দুর্গাপুর এলাকায় স্থানীয় কামরাগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন, এক নারী ইউপি সদস্য ও তানোর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

সাবেক মেম্বার ওসমান আলী (ডানে) ও তার ছেলে মতিউর রহমান

জানা গেছে, সাবেক মেম্বার ও উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ওসমান আলী এবং তার ছেলে মতিউর রহমানকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বাবা ও ছেলের একসঙ্গে কান ধরে ওঠবোস করানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার থেকে তোলপাড় শুরু হয়। সাবেক ওই মেম্বার অভিযোগ করেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। মান সম্মানের ভয়ে নিজের কান ধরার কথা এড়িয়ে গেলেও ছেলেকে কান ধরানো হয়েছে বলে দাবি করেন। যদিও ফেসবুকে  ছবিতে বাবা ছেলের কান ধরার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনা পুরোপুরি এড়িয়ে যান তানোরের কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন ও তানোর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক।

তবে এ ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করার চেষ্ট করেন চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে  তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কোথাও ঘটে থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

তবে পরে ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তবে থানা পুলিশ আসার আগেই স্থানীয় লোকজন তাদের কান ধরিয়ে ওঠবোস করায়। 

তানোর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাকও এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন এ ধরনের কোনও ঘটনার খবর তিনি পাননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার তালন্দ ইউপির সাবেক মেম্বার ওসমান আলী ও তার ছেলে মতিউর রহমান মসজিদের জন্য অর্থ আদায় করতে মঙ্গলবার সকালে বের হন। তারা উপজেলার পারিশো গ্রামের শফু মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখেন বাড়িতে কেউ নেই। কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির লোকজন এসে তাদের মোবাইল চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের আটক করে। এরপর চুরির অভিযোগ তুলে আশেপাশের আরও লোক জড়ো করেন শফুর পরিবারের সদস্যরা। এসময় বাবা-ছেলেকে ধরে মারধরও করা হয়। একপর্যায়ে সেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড নারী সদস্য আসেন। পরে চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে ওসমান আলী ও তার ছেলে মতিউর রহমানের কাছ থেকে জোর করে চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পরে তাদের চড়-থাপ্পড় মেরে ১০ বার কান ধরে উঠ-বস করানো হয়।

তবে থানা পুলিশের  উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামশুল হক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় চেয়ারম্যান বিচার কাজ শেষ করে।  

এদিকে এ নিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ না করলেও  ফেসবুকে বাবা -ছেলের একসঙ্গে কানধরা ছবি আপলোড করায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে।

তানোর থানার ওসি আব্দুর রজ্জাক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত

/এআর/টিএন/

আপ: এইচকে

আরও পড়ুন: শত্রুও যেন এরকম মিথ্যা মামলায় না ফাঁসায়: তৈমূর খন্দকার

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী