বগুড়ায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুধ জায়গা দখলই নয়, সেখানে সরকারি খরচে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। প্রতিকার পেতে জমির মালিক মোসফেকুর রহমানের পক্ষে তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান বগুড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর সদরের ফুলবাড়ি মৌজায় (দাগ নং-৬৪৭৮) মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিনকে সরকারি ব্যয়ে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। যে জমিতে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে, ক্রয়সূত্রে তার মালিক হলেন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের প্রবাসী ছেলে মোসফেকুর রহমান। তিনি ১৯৯৫ সালের ৮মে কবলা দলিল মূলে মোট ১৭ শতক জমির মালিক হন। তিনি ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল ভূমি অফিস থেকে নিজ নামে খারিজ করেন। বর্তমান মাঠ খতিয়ানেও তিনি মালিক।
ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, তার ছেলে মোসফেকুর রহমান বিদেশে থাকেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করেন। এ সুযোগে মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন গোপনে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। সেখানে সরকারিভাবে বাড়ি নির্মাণের সব বন্দোবস্ত করেছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও প্রতারণামূলক। মুক্তিযোদ্ধা হেলালের দেওয়া ভুয়া কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই না করেই বগুড়া সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়।
বগুড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর মোহাম্মদ রেজা জানান, তারা এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানা গেছে, ওই জায়গার আসল মালিক মোসফেকুর রহমান। ওই জায়গায় ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বগুড়া সদর উপজেলার প্রকৌশলী অমৃত লাল মোহান্ত জানান, জমির মালিকানার সপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা হেলাল যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছেন তা ছিল ভুয়া। প্রথমে বুঝতে না পেরে তারা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছিলেন। পরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
আরও পড়ুন:
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় প্রিমিয়াম প্লাজায় আগুন
/বিটি/এসটি/








