রাজশাহী মহানগরীর বুধপাড়ায় শিশু শাহরিয়ার আলম কাব্যকে (৭) পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রামেক হাসপাতালের ডা. এনামুল হক। ময়নাতদন্ত শেষে তিনি বলেন, ‘আঘাতের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে হয়েছে। এটি হঠাৎ রাগের বশে সংঘটিত খুন নয়।’
এনামুল হক জানান, ধারালো অস্ত্রের চারটি কোপে কাব্যর মৃত্যু হয়েছে। আঘাতগুলো সবই মাথার ওপরের অংশে। এই আঘাতের ফলে মাথা থেকে কিছু মগজও বের হয়ে গিয়েছিল। এর বাইরে লাশের দেহে অন্য কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই।
রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় শিশুটির মা তসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। রবিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর।
তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে কাব্যর লাশ উদ্ধার করা হয়। কাব্যর লাশ যে ঘরে ছিল, সে ঘরে তার মা তসলিমা বেগমও অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলেন। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। তাদের দুজনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন তসলিমা বেগম।
কাব্যর স্বজনদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তসলিমা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। আর এজন্য তিনি তার সন্তানকে হত্যা করতে পারেন।
তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, তসলিমা বেগম ও রফিকুল ইসলামের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়েও কথাবার্তা চলছিল। এর জের ধরে তসলিমা তার সন্তানকে হত্যা করতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
এ ব্যাপারে ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল কিনা বিষয়টি যাচাই করা করা হচ্ছে।’
এদিকে, তসলিমাকে রাতেই অজ্ঞান অবস্থায় আটক করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। তাকে হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওই ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স রুশিয়া খাতুন জানান, রাতে তসলিমার মাথায় ১৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। ভোররাতের দিকে তার জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনও কথা বলেননি।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে নগরীর বুধপাড়া এলাকায় স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তসলিমা বেগম (৩৫) ঘরের দরজা বন্ধ করে একমাত্র সন্তান শাহরিয়ার আলম কাব্যকে খুন করেন। এরপর তিনি নিজেও মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ কাব্যর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ছেলেকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা!
/বিটি/








