রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক স্বামী ও একই বিভাগের শিক্ষক তানভীর আহমদ সহকর্মীদের চাপের মুখে বিভাগের কার্যক্রম থেকে নিজেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছিলেন বলে জানা গেছে। বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের ১৬ জন শিক্ষক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে আকতার জাহানকে তার সাবেক স্বামী তানভীর আহমদের মানসিক নির্যাতন কথা উল্লেখ করেন শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় ওই অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। মিটিং-এর এক পর্যায়ে সহকর্মীদের চাপের মুখে তিনি বিভাগের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ মিটিং চলে।
তবে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আকতার জাহানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিভাগের শিক্ষকদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে তানভীর আহমদ বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেন। সভায় বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়।’
বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকতার জাহানের সাবেক স্বামী তানভীর আহমদ বিভিন্ন সময়ে তাকে নানভাবে মানসিক নির্যাতন করেছেন। এমনিক বিভাগের আনুষ্ঠানিক সভাতেও তাকে গালাগাল করতেন তানভীর আহমদ।
৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে জলিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার কক্ষে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ। এই সূত্রে পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর থানায় আত্মহত্যায় পরোচনার মামলা করেন জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় জলির সাবেক স্বামীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। ২০১২ সালে তানভীর আহমদের সাথে আকতার জাহানের বিচ্ছেদ হয়।
/এইচকে/







