চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাফটা চুক্তি না মানা ও নতুন নির্দেশনা জারি হওয়ার কারণে প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্য ছাড়করণে জটিলতা দেখা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার কাঁচাপণ্য পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এনিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিএন্ডএফ অ্যাজেন্টদের নিত্য চলছে বাগবিতণ্ডা। এর ফলে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আনতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলেও একাধিক ব্যবসায়ী জানান।
সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন জানান, ভৌগলিক দিক দিয়ে ভারতের পাকুড় ও নাশিকের দূরত্ব দেশের অন্য বন্দরের চেয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের দূরত্ব কম হওয়ার কারণে পাথর, পচনশীল ফলসহ অন্যান্য পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি করলে ব্যবসায়ীদের খরচ ও সময় কম লাগে। এ কারণে এ বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী হন।
তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশ-ভারত সরকার দু’দেশের আমদানি-রফতানি ব্যয় হ্রাস, পণ্য প্রবেশ সহজ করা ও দ্রুত ছাড়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল দেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (শুল্ক) এস আর ও নং-৭৮-আইন/২০১৫/০৬/শুল্ক প্রজ্ঞাপন জারি করে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সাউথ এশিয়া ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সাফটা) চুক্তি গত ০১/০১/২০১৬ থেকে দেশের সকল বন্দরে কার্যকর হলেও এ বন্দরে এ চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উক্ত চুক্তির আর্টিকেল ৩(১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আর্টিক্যাল ৭-এ বর্ণিত বিধান অনুযায়ী চুক্তিভূক্ত দেশসমূহে আমদানি শুল্ক হার হ্রাস করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সোনামসজিদ বন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাফটা চুক্তি মানতে রাজি না হওয়ায় এ বন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়ে প্রতিদিন জটিলতা সৃষ্টি করায় পণ্য ছাড়করনে দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৯ পর্যন্ত সময় লেগে যাওয়ায় কাঁচামরিচ, টমেটো, আপেল, আঙ্গুর, কমলা ও মাল্টা ফল পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, প্রতিদিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে কাঁচা পণ্যভর্তি ট্রাক দুপুর ১২ টার মধ্যে পানামা ইয়ার্ডের ভিতর প্রবেশ করে। এসব পণ্যের শতভাগ রাজস্ব পরিশোধ করার পরও কাস্টমস কর্মকর্তারা নতুন নতুন নির্দেশনা জারি করে সময়ক্ষেপণ করে। এমনকি ঐসব পণ্যভর্তি ট্রাক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরও; আবার ২/৩ বার ভর মাপার নির্দেশ দেন। ফলে ঐ সব কাঁচা পণ্যভর্তি ট্রাক ছাড়করণ শেষ করতে রাত প্রায় ৯ টা বেজে যায়। পরে ওইসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরে সময়মত যেতে না পারায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫ ট্রাক মরিচ ও ৩৩ কোটি টাকার মূল্যের ২২ ট্রাক টমেটো পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ১০ ট্রাক শুঁটকি মাছ আটকে রেখেছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর কাস্টমস কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, নিয়মনীতি মেনে কাঁচাপণ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ভর মাপা শেষে দ্রুত ছাড় করা হচ্ছে। তবে আমদানিকৃত কাঁচা পণ্যের বিল অব এন্ট্রি দেরী করে অফিসে জমা দেয়ায় তাদের কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করতে গিয়ে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
এদিকে গত সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময়সভায় ভারতীয় সহকারী কমিশনার অভিজিৎ চট্টপাধ্যায় দু’দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ায় বিদ্যমান সমস্যা নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন বলে জানা যায়।
/এইচকে/







